মফঃস্বল বার্তা ডেস্ক: বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি’র বক্তব্য ও ঘোষণা রাজনীতিতে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার জন্ম দেয়া দলটি কোন দর্শন ও সুনির্দিষ্ট কোন কর্মসুচি দিতে পারেনি- এমনটাও মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
অন্যদিকে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, সেকেন্ড রিপাবলিক এবং দলটির শ্লোগান ইনকিলাব জিন্দাবাদ- এগুলো বলে দলটি কী বলতে চেয়েছে কিংবা ভবিষ্যতে কি করতে চাইছে তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা বলেছেন তাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টে দেয়ার বার্তা দেয়া হয়েছে।
“বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোতেই স্বৈরাচার তৈরির সুযোগ আছে। রাষ্ট্রের মতো অনেক দলেও তাই সর্বময় ক্ষমতা একজনের হাতে চলে যাচ্ছে। আবার দেখুন গত পনের বছরে যেসব আন্দোলন গড়ে উঠেছে তা কিন্তু তরুণরা করেছে। ফলে বিদ্যমান রাজনৈতিক সিস্টেম ভাঙ্গা এবং তরুণদের প্রত্যাশা পূরণের বার্তাই আমরা দিয়েছি,” বলছিলেন তিনি।
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, দলটি মধ্যপন্থায় বিশ্বাসী একটি মধ্যবিত্তের দল হিসেবে আবির্ভূত হবার আভাস দিয়েছে, যাতে প্রথাগত রাজনীতি পরিবর্তনের বার্তা আছে। কিন্তু এটি করতে দেশে যে রাজনৈতিক ঐক্য দরকার হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোন পরিকল্পনা তারা দিতে পারেনি।
ওদিকে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “যারা সেকেন্ড রিপাবলিকের ঘোষণা দিয়েছেন সেটা তাদের ঘোষণাপত্রে থাক। যারা গণপরিষদের মধ্য দিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে চান সেটা তারা যখন পারবেন করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের আর কোন যেন বিলম্ব না হয় সেজন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই আমাদের আহবান”।
অর্থাৎ সেকেন্ড রিপাবলিক কিংবা গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি সংসদ নির্বাচনকে বিলম্বিত করার একটি বার্তা হিসেবে মনে করার একটি ইঙ্গিত বিএনপির দিক থেকে আসছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন নতুন দলটি তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের কথা বলেছে, যা তাদের সাধারণ অধিকার। তবে দেখার বিষয় হবে লক্ষ্য অর্জনে কী ধরনের কর্মপন্থা তারা বেছে নেয়।