রাজশাহী প্রতিনিধি: ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথিকে বরণ করা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তানোর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন নিহত বিএনপিকর্মী গানিউল হকের বড়ভাই মোমিনুল হক।
মামলায় ৯৭ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারে ৩৭ জন নাম উল্লেখ ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান। তাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। আসামীরা সবাই চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিনের সমর্থক।
তানোর থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, ‘গানিউলের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমানসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৬০ জনকে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
গত মঙ্গলবার তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির ওই ইফতারে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। আর প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন।
ওই ইফতারে শরীফ উদ্দিনকে বরণ করা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই কৃষ্ণপুর মোড়ে অপেক্ষা করছিলেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোমিনুল হকের অনুসারীরা প্রধান অতিথিকে বরণ করতে চাইলে তাতে বাধা দেয় বর্তমান সভাপতি মুজিবুর রহমানের অনুসারীরা। তখন দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে মোমিনুল হকের ছোটভাই গানিউল ইসলাম আহত হন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।