বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বাবা, মা, ছোট দুই বোনের মৃত্যুর পর দুইদিন চট্টগ্রাম মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন কলেজ পড়ুয়া তাসনিম ইসলাম প্রেমা। কিন্তু গতকাল শুক্রবার শেষ পর্যন্ত তারও মৃত্যু হয়।
যে মহাসড়কে দুর্ঘটনায়এত প্রাণহানি হয়, সেই এলাকার অর্থ্যাৎ দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বিবিসিকে জানান, হাসপাতালে এই মুহূর্তে আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি আছেন।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ কিংবা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই বাংলাদেশের সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এবার ঈদে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দুইশো’র বেশি
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওই দুর্ঘটনা এবার ঈদের কোনো একক ঘটনা নয়।
ঈদের আগের সাতদিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন – এই মোট ১৫ দিনকে ঈদযাত্রা হিসাবে ধরা হয়। ওই হিসাবে গত ৩১শে মার্চ ঈদ হওয়ায় এবারের ঈদ যাত্রা এখনও শেষ হয়নি।
ফলে, এবারের ঈদ যাত্রায় মোট কতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, তার কোনও পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও কোনো মাধ্যম থেকে পাওয়া যায়নি।
তবে সড়কে অব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা রোধ ও যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এবারের ঈদের সড়ক দুর্ঘটনা একটি প্রাথমিক তথ্য বিবিসিকে দিয়েছে।
তাদের প্রাথমিক হিসাবে ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে, গত ২৪শে মার্চ থেকে চৌঠা এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২১৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এতে নিহত হয়েছেন ২৩৯ জন এবং আহতের সংখ্যা ৫১৬ জন।
সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বিবিসিকে জানান, এখনও ঈদযাত্রা শেষ হয়নি এবং অনেক তথ্য আসেনি। ফলে দুর্ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা তাদের প্রাথমিক পরিসংখ্যান থেকে বেড়ে যেতে পারে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি’র হিসাবে, ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে মিলিয়ে ১৫ দিনে সড়কে ৩৯৯টি দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে ৪০৭ জন নিহত এবং এক হাজার ৩৯৮ জন আহত হয়।
২০২৩ সালের রোজার ঈদের ১৫ দিনে সড়কে ৩০৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিলো ৩২৮ জনের। আর, সে সময় আহত হয়েছিলেন ৫৬৫ জন।
এছাড়া, বিগত নয় বছরে শুধুমাত্র ঈদুল ফিতরে সারাদেশে দুই হাজার ৩৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই হাজার ৭১৪ জন নিহত এবং সাত হাজার ৪২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানায় সংগঠনটি।