ভারী বৃষ্টিতে জলজটে ভোগান্তির নগর ঢাকা

Mofossal Barta
প্রকাশিত July 12, 2024, 15:15 PM
ভারী বৃষ্টিতে জলজটে ভোগান্তির নগর ঢাকা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেস্কঃ
রাজধানীতে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত যে তুমুল বর্ষণ হয়েছে, তাতে ডুবে গেছে উঁচু-নিচু বিভিন্ন সড়ক এবং পাড়া মহল্লার অলি-গলি। তাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘরের বাইরে পা দেওয়া মানুষেরা নাকালতো হয়েছেনই, রাস্তা উপচে ময়লা পানি ঢুকেছে বাজারে, দোকানে এমনকি অনেক বাসাবাড়িতেও।

এছাড়া রাস্তায় বের হওয়া প্রাইভেট কার, অটোরিকশাও বিকল হয়ে পড়ে থেকেছে বিভিন্ন রাস্তায়। ফলে তৈরি হয়েছে যানজটও।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মহাখালী দক্ষিণ পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে সেখানে কোমর সমান পানি। এই এলাকায় সড়কের পাশে দোকানপাট এবং কোনো কোনো ভবনের নিচতলাতেও পানি ঢুকেছে।

সেখানকার ‘মাহবুব জেনারেল স্টোরে’ পানি ঢোকায় এর স্বতাধিকারী মাহবুবুল আলমের কথায় ক্ষোভ ঝরেছে।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার দোকান রাস্তার ধারে। কিছুদিন আগে আমি দোকানের সামনে কিছুটা পাকা করে দিয়েছিলাম। তাতে কোনও লাভ হয়নি। বৃষ্টির পানি প্রায় কোমরসমান হয়ে দোকানে ঢুকেছে। মালামাল সব ভিজে বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়ে গেল আমার।

“এত উন্নয়নের কথা বলা হয়, অথচ সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে বাসাবাড়িতে ঢুকে যায়। দুর্ভোগের সীমা থাকে না।”

তেজগাঁও থেকে মহাখালীতে রিকশায় করে আসা সবুজ হোসেন বলেন, “রিকশায় উঠেও নিস্তার নেই, ভিজে যাচ্ছি, এত পানি। কাজে বের হয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে ভুলই করলাম।”

সকালে পানিতে ভিজে দোকানে যাচ্ছিলেন নাখালপাড়ার বাসিন্দা সফুরা বেগম।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে বাচ্চাগুলো কিছুই খায়নি। বাধ্য হয়েই বের হলাম। কয়দিন আগেই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করল। কিন্তু, লাভ হয়নি কোনো। প্রায় কোমরসমান পানি। এই জ্বালার কোনো সমাধানই নাই।”

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় আছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। যার কারণে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এরপর থেকে বৃষ্টি কমবে। ”

সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, শ্যাওড়াপাড়া, কাজীপাড়াসহ মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা এবং মিরপুরে মাজার রোড, অ্যালিফেন্ট রোড, মৎসভবন, সেন্ট্রাল রোড, ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেইট, তেজগাঁও, বিজয় সরনী, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, তেজকুনি পাড়া, দক্ষিণ মনিপুরের মোল্লাপাড়া, মহাখালীর বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমেছে।

এছাড়া শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল, নয়া পল্টন, পুরানা পল্টন, আরামবাগ, শাহজাহানপুর, ফকিরেরপুল, বিজয়নগর সড়কে পানি উঠেছে। পানিতে তলিয়েছে দয়াগঞ্জ মোড়, সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, নিমতলী, কমলাপুরের কাছে টয়েনবি সার্কুলার রোড, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শনির আখাড়া, রায়েরবাগ, গোলাপবাগের নিচু এলাকাসহ আরো কয়েক এলাকায়।

জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি বিকল হয়ে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীবাসীকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ‘কুইক রেসপন্স’ টিম মাঠে নেমেছে। কাজ করছেন ৫ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকার ১০টি অঞ্চলে ১০টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করছে। যারা বিভিন্ন ক্যাচমেন্ট এলাকায় কাজ করছে। কিন্তু, অসুবিধা হচ্ছে যেসব পয়েন্ট থেকে আমরা ড্র্বেইনেজ সিস্টেম পরিষ্কার করি, সেই পয়েন্টগুলোতে মানুষ বিভিন্ন ধরণের আবর্জনা ফেলায় এলাকাভিত্তিক জলাবদ্ধতা নিরসনে সময় লাগছে।

“তবে বড় সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা কমেছে। যেসব এলাকায় আমরা ড্রেনেজের কাজ করেছি, সেসব জায়গায় কিন্তু জলাবদ্ধতা নেই। বা থাকলেও দ্রুত কমে যাচ্ছে।”

অল্প সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পানি অপসারণ হতে কিছুটা সময় লাগছে জানিয়ে মকবুল হোসাইন বলেন, “ এখনো যেসব অঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে কুইক রেসপন্স টিম পাঠিয়ে সেই সব অঞ্চলের ড্রেন পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিটি অঞ্চলের শাখা রাস্তাগুলো থেকে পানি সরাতে কাজ চলছে।

এছাড়া কোথাও কোনো পানি জমে থাকলে ডিএনসিসির হটলাইন ১৬১০৬ এই নম্বরে ফোন করার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও।

পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও।

দক্ষিণের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০০টি টিম সকাল থেকে কাজ করছে। এছাড়া দোলাইর পাড় ও কমলাপুরে পাম্প চালু আছে।”

ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে গ্যাস সংকটও। সকালে বাসাবাড়িতে চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকার কারণে বৃষ্টির মধ্যেই অনেকে বাধ্য হয়ে খাবার কিনতে বের হয়ে বিপাকে পড়েন।

সেগুন বাগিচার বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, “বাসায় গ্যাস নেই। সকাল বেলা উঠে বৃষ্টি দেখি। তাও উপায়ান্তর না দেখে ছাতা নিয়ে বের হলাম। কারণ বাচ্চারা কেউ নাস্তা করেনি। কিন্তু সেগুন বাগিচার কোনো হোটেল খোলা পেলাম না। কি যে ঝামেলায় পড়লাম?”

হাতে গোণা কিছু প্রাইভেট কার আর মিনিবাস চলতে দেখা গেছে শান্তিনগরের রাস্তায়। সেগুলো চলার সময় যেভাবে পানি ছিটিয়েছে, তাতে রাস্তার ময়লা পানিতে ভিজে একাকার হয়েছেন ফুটপাত ধরে যাওয়া লোকজন।