জহিরুল ইসলাম, ব্যুরো প্রধান, বরগুনা :
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের একটি প্রতিষ্ঠান বরগুনা জেলার সদর উপজেলায় জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত আবাসন এবং জীবিকায়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে, গ্রীন ক্লাইমেট (GCF) এর ফান্ডে পিকেএসএফ এর Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL) প্রকল্পের Inception Workshop ১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখ, বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব পিজুস চন্দ্র দে, জেলা প্রশাসক ( ভারপ্রাপ্ত) বরগুনা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শাহাদাত খান, ফ্যাকাল্টি আরএমআইটি ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া।
ড. একেএম নুরুজ্জামান, মহাব্যবস্থাপক পিকেএসএফ এর সভাপতিত্বে উক্ত কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, এবং পিকেএসএফ এর সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, ডিএফইডি র জোনাল ম্যানেজার, এরিয়া ম্যানেজার,ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও প্রকল্পের স্টাফবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। প্রকল্পটি বরগুনা সদর উপজেলার ৪টি ( নলটোনা, এম বালিয়াতলী, ঢলুয়া, বদরখালী, বুড়িরচর, আইলাপাতাকাটা, ফুলঝুড়ি) ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হবে।
Green Climate Fund (GCF)-এর আর্থিক সহায়তায় পিকেএসএফ উপকূলীয় সাতটি জেলায় (কক্সবাজার, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রধান অতিথি পিজুস চন্দ্র দে বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপন্নতার সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ বিপন্নতা রোধকল্পে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মকৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করছে। পিকেএসএফ এ প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় সফলতা লাভ করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডিএফইডি কে প্রকল্প বাস্তবায়নে বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।
সভাপতি ড. একেএম নুরুজ্জামান বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগসমূহ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় অবদান রাখছে। এ জন্য তিনি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ খাতে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালনের জন্য তিনি পিকেএসএফ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপক মো: মাহমুদুজ্জামান বলেন, পিকেএসএফ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় তাঁদের উন্নত ও টেকসই বিকল্প জীবিকার উপায় প্রদান করা।
প্রকল্পটির মাধ্যমে উপকূলীয় প্রায় তিন লক্ষ অতি দরিদ্র মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। প্রকল্পটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে: উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল বাড়ি নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ/বসতভিটা উচুকরণ, কাঁকড়া হ্যাচারি স্থাপন ও কাঁকড়া চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, মাঁচা পদ্ধতিতে ছাগল/ভেড়া পালন, বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় লবণাক্ততা সহনশীল সবজি চাষ, বাড়ীর আঙ্গিনায় এবং কাঁকড়া ঘেরে ম্যানগ্রোভ বনায়ন ইত্যাদি।