• ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউজ করেন ৫ বছর ধরে আছি বদলী হয়না’ পরে দিলেন সেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা 

Mofossal Barta
প্রকাশিত নভেম্বর ৬, ২০২৫, ০০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
নিউজ করেন ৫ বছর ধরে আছি বদলী হয়না’ পরে দিলেন সেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা 
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বরগুনা প্রতিনিধি

“আমার নামে নিউজ করেন আমি পাঁচ বছর হলো বরগুনায় আসছি যেতে চাই কিন্তু যেতে পারছি না।” পাঁচ বছরে বরগুনায় থেকে অনেক ইতিহাস সৃষ্টি করলাম কিন্তু বরগুনা ছাড়তে পারলাম না। মজার ছলে গল্প করতে করতে  নিজ অফিস কক্ষে এভাবেই বলতে ছিল বরগুনার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন। পরেই তিনি ঐ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ট্রাইবুনাল আদালতে করলেন মামলা। এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বরগুনা সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরগুনা আসার পর থেকে নিজ তৃতীয়  অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষের পাশে সংসার পেতে আছে। এমন সংবাদের যাচাই করতে গিয়ে এর সত্যতা মিলে। তবে এসময় তিনি অফিসের অন্য কক্ষ ভাড়া না দেয়ার কথা অস্বীকার করেন। বলে তারা অল্প টাকা বেতন পায় তাই এখানে থাকে। এছাড়া আরও বলেন এতবড় অফিস পাহাড়া দিতেও লোক দরকার তাই এরা থাকেন।

এসময় দেখা যায় তৃতীয় তলায় তিনটি রুম ব্যবহার করছেন তিনি। বছরের পর বছর দখল করে আছেন গেস্ট রুম। দুটি দিয়েছেন তারই দুই কর্মকর্তা সহকারী পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ও অসিত বাবুর কাছে। তার সঙ্গে থাকতেন তার প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম। সরকারী অফিসের নিয়ম ভেঙ্গে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে থাকার কথা জিজ্ঞেস করলে ঐ কর্মকর্তা  আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বলেই থাকছি। জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে তিনি এসময় বলেন তার স্ত্রী আসলে যেন এখানে তাকে নিয়ে থাকি। অন্য দুইজনের বিষয় জানতে চাইলে  তিনি বলেন সরকারী চাকরী করে কত টাকাই আর বেতন পায় তাই এখানেই থাকছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এক প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। ঐ সভাপতির নাম লাভলী আক্তার নিপা। তিনি বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্যের বোনের মেয়ে। পরে তার প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে। পরে ২০২২ সালের জুন মাসের ২৫ তারিখ দশ লক্ষ টাকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয় স্ত্রীর লাভলী (নিপা) এর তথ্যমতে নিজেকে অবিবাহিত দাবী করে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। তার বিয়ের খবর চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রথম স্ত্রী জানতে পারলে এ নিয়ে তৈরী হয় ঝগড়াঝাটি, দ্বন্দ্ব। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে নিপাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে পুনরায় লাভলী নিপার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। এতে বাধ সাজে নিপা। শিক্ষা কর্মকর্তা তখন স্হানীয় লোকজন ধরে নিপাকে পুনরায় চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল একানব্বই লক্ষ টাকা দেনমোহর দিয়ে বিবাহ করে এবং তার সঙ্গে বসবাস করতে থাকে কখনো নিপার বাসায় কখনো অফিসের দখলে থাকা গেস্ট রুমে।

পরবর্তীতে জসিম উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী এই বিয়ের বিষয় জানতে পারলে পারিবারিক চাপে তিনি নিপাকে তালাক প্রদান করেন। এমনকি গত ২ অক্টোবর প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম স্বামী জসিম উদ্দিনকে নিয়ে নিপার বাসায় গিয়ে হুমকি প্রদান করে আসে। এতে নিপা শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে তিনি কাবিনের খোরপোশ দাবী করে জেলা জজ কোর্টে  নিপা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।

বরগুনা জেল শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস দখল করে বসবাসের ছবি সহ তার কার্যালয়ে যাওয়া ঐ সাংবাদিকগণ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। সেই ছড়িয়ে দেয়া পোস্টের বরাত দিয়ে গত ৩০ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বৈশাখ টেলিভিশন বরগুনা জেলা প্রতিনিধি রাসেল শিকদার ও এ ওয়ান টিভি প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন রাজু সহ অজ্ঞাত আরো দুই জনকে আসামি করে মামলা করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে ৭দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে। পরে বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন গত ২ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে এজাহার হিসেবে দ্রুত বিচার আইনে রুজু করেন।

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর, বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর কবির মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান তাপস। বিবৃতিতে তারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলা দেয়ায় প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

এবিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে জানান তিনি অফিসের কাজে বাহিরে আছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এখন অনেক অফিসে থাকার ব্যবস্হা রয়েছে। বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসবাস করার কোন ব্যবস্হা আছে কিনা আমার জানা নেই। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো।