অনলাইন ডেক্স,
সত্যের কণ্ঠ রোধ করা চলে না: মতিঝিলে সাংবাদিক অবরুদ্ধের ন্যক্কারজনক ঘটনা এবং আইনি সুরক্ষার জোরালো দাবি
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের এক পবিত্র ব্রত এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সাহসী কণ্ঠস্বর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যখন সেই কলম সৈনিকই নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তখন তা গোটা সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলের বহুতল সিটি সেন্টারে দৈনিক ‘জাতীয় দিন প্রতিদিন’ ও সাপ্তাহিক ‘বিশ্ব মিডিয়া’র সাংবাদিক মো. সোহেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনাটি এককথায় নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক।
পেশাগত তথ্যের সন্ধানে গিয়ে একজন সাংবাদিককে কেবল হেনস্তাই করা হয়নি, বরং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। যারা সমাজের অনিয়ম আর অন্ধত্ব দূর করতে আলোর মিছিল নিয়ে ঘোরেন, তাদের যদি এভাবে অপমানের শিকার হতে হয়, তবে তা মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য এক অশনি সংকেত। একজন সাংবাদিক তো কোনো অপরাধী নন, তিনি সমাজের দর্পণ। তিনি কেবল জানতে চেয়েছেন আইনের সঠিক প্রয়োগের কথা। কিন্তু তার এই স্বাভাবিক ও পেশাগত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তাকে যেভাবে অবরুদ্ধ করা হলো এবং পত্রিকার সম্পাদক মহোদয়কে নিয়ে কটূক্তি করা হলো, তা কেবল অমানবিকই নয়, বরং আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
আজকের এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে, কলম কি তবে থেমে যাবে? সত্যের প্রকাশ কি তবে রুদ্ধ হবে?
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সেই সাথে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছি। কোনো নিরপরাধ সংবাদকর্মীকে যেন অযথা মানহানি বা মিথ্যা হয়রানির ফাঁদে ফেলা না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের কঠোর দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
”আজ একজন সাংবাদিক অবরুদ্ধ, কাল যেন আর কোনো সাংবাদিক এমন অমানবিক পরিস্থিতির শিকার না হন”— এই হোক আমাদের সম্মিলিত উচ্চারণ। সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিকতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সত্যের জয়যাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকুক।