বাদল আহাম্মদ খান
নিজস্ব প্রতিবেদক, আখাউড়া
‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’- বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রথম লাইনটি বড় অক্ষরে লেখা। আড়াআড়ি করে রাখা বাংলাদেশ-ভারতের জাতীয় পতাকা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের ছবিও আছে এখানে।
বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারকেও বেশ সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আছে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জনের নানা দৃশ্য। বাংলাদেশের বর্তমান চিত্রটাকেও তুলে ধরা হয়েছে। হাতে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সৌহার্দ্যের চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় দুর্গাপুজা উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে এভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আগরতলার আচার্য জগদীশ বসু স্মরণি (রোনাল্ডসে রোড) যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। ওই সড়ক ধরে হেঁটে যেতেই চোখে পড়বে এমন দৃশ্য।
ব্রান্ড মাউথ ও কের চৌমুহনী পুজা উদযাপন কমিটি যৌথভাবে এ পুজার আয়োজন করেছে। রামনগর-কৃষ্ণনগর এলাকায় পুজো মন্ডপের অবস্থান। ব্যতিক্রম এ আয়োজন দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি অনেক বাংলাদেশিও সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিচ্ছেন।
মন্ডপ পরিদর্শন করা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে ও স্থানীয়ভাবে ছবি সংগ্রহ করে দেখা যায়, সড়কের পাশ ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এস আরোরার কাছে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করছেন পাক সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজী, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় পাক সেনার হাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পাকসেনার আগরতলা দখলের ষড়যন্ত্রকে ভেস্তে দেয়া আলবার্ট এক্কা ও ভারতীয় সেনার কামান, আগরতলার বিশ্রামগঞ্জের হাবুল ব্যানার্জির বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের ফিল্ড হাসপাতাল, ত্রিপুরার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা স্বাধীনতা সংগ্রামী শচীন্দ্র লাল সিংহের সাথে গোপন বৈঠকে বঙ্গবন্ধু (১৯৬৩)। এছাড়া বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলীও তুলে ধরা হয়েছে।
আগরতলার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা মনোজ চৌধুরী এটিকে প্রাসঙ্গিক একটি আয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন। এ প্রতিবেদককে ছবি তুলে পাঠানো মনোজ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সব কিছুই তুলে ধরা হয়েছে পুজার আয়োজনকে ঘিরে। এটি একটি ব্যতিক্রম আয়োজন। অনেক বাংলাদেশিও আসছেন এটা দেখতে। পুরো আয়োজনটাই সড়কের ধারে। যে কারণে চলার পথেই সব দেখা যায়। রাতের কৃত্রিম আলোয় বিষয়গুলো আরো সুন্দরভাবে ফুটে উঠে।’