• ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী-৬ আসন : বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

Mofossal Barta
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৫, ১৩:৫২ অপরাহ্ণ
রাজশাহী-৬ আসন : বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

রাজশাহী-৬ আসন : বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

সংবাদটি শেয়ার করুন....

সেলিম রেজা, রাজশাহী: জেলার পুর্বাঞ্চলের পদ্মাপাড়ে অবস্থিত রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসন। অন্য আসনগুলোর মতো এ আসনেও বইছে আগাম নির্বাচনের হাওয়া। রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে বিএনপির সর্বাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে নেমেছেন। এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রত্যেকের একসময় দলের বিভিন্ন পর্যায়ে পদ-পদবি ছিল। তবে ২০২১ সালে রাজশাহী জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হলে তারা পদহীন হয়ে পড়েন৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর সম্ভাব্য এসব প্রার্থী তৃণমূলে ছোটাছুটি শুরু করেছেন।

নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে এলাকায় নিজেদের অবস্থানকে পোক্ত করার চেষ্টা করছেন। মূলত আগামী নির্বাচনকে ঘিরেই রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার দলীয় ও সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে। চারঘাট ও বাঘা উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৬ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৫২৭ জন। জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য একজন প্রার্থীকে সামনে রেখে দলটির নেতাকর্মীরা এ আসনে ব্যাপক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়াও এ আসনে আছেন জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য একজন প্রার্থী। ইসলামী আন্দোলনের একজন প্রার্থীও রাজশাহী-৬ আসনে তৎপর রয়েছেন। তবে গত সাড়ে ১৫ বছর নিরঙ্কুশ দাপটে থাকা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বজলুর রহমান, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান মানিক, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু।আসনটিতে বিএনপির আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন আবু সাঈদ চাঁদ। সারা দেশে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী বিগত সরকারের সময়ে সর্বাধিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতা আবু সাঈদ চাঁদ তাদের অন্যতম। হামলা-মামলায় চাঁদ ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দেশের ১২ জেলায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি ও সন্ত্রাস দমন আইনে ৮৫টি মামলা হয়। এসব মামলায় তাকে দিনের পর দিন জেলে কাটাতে হয়েছে।আবু সাঈদ চাঁদ ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই দফায় ৯ বছর চারঘাট উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। চারঘাট উপজেলার শলুয়া গ্রামে তার বাড়ি।

আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে আমি সব হারিয়েছি। সারা দেশে আমার বিরুদ্ধে ৮৫টি মামলা হয়েছে। জেল-জুলুম, নির্যাতন করেও আমাকে দমাতে পারেনি স্বৈরাচারী সরকার। আমি জেলে থাকায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন আমার গর্ভধারিণী মা ও স্ত্রী। আমি জেলা বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়েছে। চারঘাট-বাঘায় বিএনপি নেতাকর্মীরা শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন। দল আমাকে প্রার্থী করলে রেকর্ড পরিমাণ ভোটে বিজয়ী হব।

অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় বিএনপির আরও পাঁচ নেতা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় সক্রিয় হচ্ছেন। তাদের অন্যতম জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। তিনি বলেন, তিনি নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। কারারুদ্ধ হন একাধিকবার। ছিলেন সিটি কলেজের জিএস। ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় থেকেছেন। তিনি বাঘার সন্তান ও ত্যাগী নেতা হিসাবে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বজলুর রহমানও এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তিনি আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালে বজলুর রহমান এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল চারঘাট-বাঘা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। উজ্জ্বল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়কও ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি এ আসনে দলের মনোনয়ন চাইবো। এ লক্ষ্যে দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করছি। শত প্রতিকূল পরিবেশেও সব সময় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম ও আছি। আমি চারঘাটের সন্তান। আমার প্রতি এলাকার নেতাকর্মীদের বিপুল সমর্থন আছে। তারা আমাকে ভালোবাসেন।

বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান মানিকও আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইবেন। এ লক্ষ্যে এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। এলাকার বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে মাঝেমধ্যে অংশ নিচ্ছেন। মানিকের বাড়ি বাঘায়। এছাড়াও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু। এর আগে একাধিকবার তিনি এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলায়।

অন্যদিকে, রাজশাহী-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নাজমুল হক। স্থানীয় জামায়াত তাকে এ আসনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির একাধিক সূত্র বলছে। অধ্যক্ষ নাজমুল হকের বাড়ি চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামে।

তবে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসাবে মাঠে আছেন বাঘা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা জিন্নাত আলীও। জামায়াতের এ দুই প্রার্থী রাজশাহী-৬ নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন দলীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

এছাড়া রাজশাহী-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে মো. সুরুজ্জামান ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামসুদ্দিন রিন্টু নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলায় বিভিন্ন দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তারা এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে ভোটার বলছেন এবার বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। যার কারণে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তেজনা।