“কিন্তু এটাতো সত্য, শুরুতেই আমরা যখন জনগণের কাছে যাচ্ছি, সে জায়গায় যখন অভিযোগের কথাটা আসছে, তখন আমাদের আগে ক্লিয়ারেন্স দিতে হচ্ছে। আমাদের নিজেদের পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতে হচ্ছে। এতটুকু বিঘ্ন, হ্যাসেলের মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হচ্ছে”, বলেন তিনি।

তবে এই অভিযোগ স্বল্পমেয়াদে দলের জন্য সমস্যা তৈরি করলেও “অভিযোগের বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রভাব ফেলবে না” বলেও মনে করেন মি. হোসেন।

উল্লেখ্য, আসন্ন নতুন দলের শীর্ষ পদের তালিকায় আখতার হোসেনের নাম বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে।

এদিকে গণতান্ত্রিক চর্চা করতে পারলে সরকারি আনুকূল্যের অভিযোগ কাটাতে পারবে তরুণদের এই দলটি – এমনটাও বলছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক।

“প্রশ্নটা হচ্ছে, সরকার কতটুকু প্রশ্রয় দেবে। সরকার যদি সবাইকে সমসুযোগ দেয় তাহলে সমস্যা নেই, সরকারে থেকে যদি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়- তাহলে সেটা অন্যায্য হবে,” বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

কিংস পার্টির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দল গঠনে বিএনপির সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রশ্নে তাদের দিকেও তোলা হয়েছে পাল্টা অভিযোগ।

বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রথম কিংস পার্টি বলেও অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।

যদিও বিএনপির প্রতিষ্ঠা নিয়ে এসব বক্তব্যকে একেবারেই নাকচ করে দিচ্ছে দলটি।

এনিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সিপাহী জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ওনার (জিয়াউর রহমান) উত্থান হয়েছে। উনি ক্ষমতা নেননি, উনাকে বসানো হয়েছে”।

পরবর্তী সময়ে “সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকারের বাইরে বিএনপি গঠন” হওয়ায় ছাত্রদের দলের সঙ্গে বিএনপির কোনো তুলনা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বিএনপির এই সমালোচনার সুযোগ নেই বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের।

“বিএনপি যখন গঠন হয়েছিল, জিয়াউর রহমান যখন দলের চেয়ারম্যান তখনও কিন্তু দেশে সামরিক শাসন। এটা আমাদের বুঝতে হবে। ওইটার তুলনায় আমরা যদি ডিফারেন্স দেখতে যাই, অন্তত বিএনপির এই সমালোচনা করার সুযোগ দেখি না”, বলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য নিয়ে দল গঠনের অভিযোগ আছে বাংলাদেশের আরেক রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও।

তবে তিনটি দলের প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেষ পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে নতুন দল ভোটের রাজনীতিতে কতটা সুবিধা করতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।