তাদের বিচক্ষণতা ও নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। তাদের এই ত্যাগ ও সদিচ্ছাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
বর্তমান সময়েও সেনাবাহিনী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও তারা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। গত সাত মাস ধরে তারা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেশব্যাপী অরাজকতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের এই ত্যাগী ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, তাদের অবদান ছাড়া দেশের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ত।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের কথায় ফিরে যাই। তিনি বলেছেন, ‘আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা—এ দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনানিবাসে ফেরত আসব।’ এই কথাগুলো শুধু একটি বক্তব্য নয়, এটি সেনাবাহিনীর চেতনা ও আদর্শের প্রতিফলন। তারা কখনোই ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়নি। পাকিস্তান বা আফ্রিকার কিছু দেশের মতো বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কখনোই ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেনি। বরং তারা সব সময় দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে।
তবে দুঃখের বিষয়, এই মহান বাহিনীকে নিয়ে কিছু মহল থেকে নানা ষড়যন্ত্র ও বিতর্ক ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তাদের নজিরবিহীন ত্যাগ ও অবদানকে সংকীর্ণ স্বার্থে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের কোনো স্থান আমাদের সমাজে থাকা উচিত নয়। কারণ, সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার অর্থ হলো দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলা। তাদের প্রতি আস্থা রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব, আমাদের শক্তি। তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গের শপথ নিয়েছে। তাদের এই আত্মত্যাগের কোনো তুলনা নেই। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ বা র্যাব—কাউকেই এ ধরনের শপথ নিতে হয় না। এই অসামান্য ত্যাগের দাবিদার একমাত্র সেনাবাহিনী। তাদের সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অবশ্যই অটুট থাকবে।
আমরা যেন ভুলে না যাই, সেনাবাহিনী আমাদের ক্রান্তিকালের কাণ্ডারি। তারা আমাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের রক্ষাকারী। তাদের প্রতি আমাদের আস্থা ও ভালোবাসা যেন কোনো দিন কম না হয়। কারণ, তাদের শক্তিতেই আমরা নিরাপদ, তাদের ত্যাগেই আমরা গর্বিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।