অনলাইন ডেস্ক: যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হচ্ছে, ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা, কাউয়ারচরসহ বিলীন ৫২১ বর্গকিলোমিটার এলাকা ফের সন্দ্বীপের মানচিত্রে যুক্ত হচ্ছে।
তাদের মতে, সাগরে পলিমাটি জমে প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে দ্বীপটি। ইতিমধ্যে জাহাইজ্যারচর, ভাসানচর, উরিরচর নানাভাবে সন্দ্বীপের সঙ্গে মিশে গেছে। পলি জমে চরগুলোর আয়তনও বাড়ছে।
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) এক গবেষণাতেও এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম— বাংলাদেশে বিনিয়োগ কম, বড় বাধা পাঁচটি।
এই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যবসায় পরিবেশ তথা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচটি বড় বাধা হচ্ছে বিদ্যুতের সমস্যা, অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, দুর্নীতি, অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিক্য ও উচ্চ করহার।
ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) এক প্রতিবেদনে এ উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় বিনিয়োগ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
ওই অনুষ্ঠানে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীর বলেন, প্রতিবেদনে সঠিক তথ্যই তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই এ প্রতিবেদন দেখে থাকবেন। সুতরাং এই চ্যালেঞ্জগুলো যেন ভবিষ্যতে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ২০২৪ সালে প্রকাশিত বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালে সারা বিশ্বে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পৌনে শতাংশ কমলেও বাংলাদেশের কমেছে পৌনে ১৪ শতাংশ।
আইএফসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জিডিপির অনুপাতে বিদেশি বিনিয়োগ মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ (২০২৩)। বাংলাদেশের অর্থনীতির যে গতি প্রত্যাশা করে তার বিপরীতে বিনিয়োগের হার অপর্যাপ্ত। যে বিনিয়োগ আসছে, তা মূলত দেশে ব্যবসারত বিদেশি কোম্পানিগুলোই করছে। নতুন কোম্পানি কম আসছে।
দেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক সমস্যার কথাও বলা হয় এতে। এর মধ্যে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন, সুশাসনের অভাব, আইনের জটিলতা, প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা, সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি।
আইএফসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের কৌশলগত চারটি খাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিলে প্রতিবছর এসব খাতে প্রায় ৩৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। খাত চারটি হলো আবাসন, পেইন্ট অ্যান্ড ডাইস, তৈরি পোশাকশিল্প ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা।
দেশের আবাসন খাতে ডিজিটাল ম্যাপিং, জমি নিবন্ধন ও জমির অতিরিক্ত দাম নিয়ে জটিলতা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
— আজকের পত্রিকার প্রধান খবর এটি।
এই খবরে বলা হয়েছে, সারাদেশে ১১ হাজার ৮৮১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়নি। এমন বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, সংখ্যায় যা চার হাজার ৭৭০টি।
এসব বিদ্যালয়ের জমির কোনোটি বিএস রেকর্ডে ব্যক্তির নামে, কোনোটি খাস, আবার কোনোটি অন্য মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা যায়, সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অথবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত করার বিধান রয়েছে।
বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত করা না হলে এসব জমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, সব বিদ্যালয়ের জমি রেকর্ডভুক্ত করতে নেয়া উদ্যোগ অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ (২০২২-২৩) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৫টি।
এতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বছরের পর বছর ধরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), মাথাপিছু আয়, রফতানির তথ্য বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আট মাস পেরিয়ে গেলেও সেই অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যানের কবল থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের মান নিয়ে দাতা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছে।
২০২২ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ বলা হলেও এর প্রকৃত হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
রফতানি আয়ের অতিরঞ্জিত তথ্যের কারণে প্রতি বছরই ব্যালান্স অব পেমেন্টে (বিওপি) ট্রেড ক্রেডিটে বড় অংকের ঘাটতি দেখা যেত।
রফতানির এ হিসাবের সঙ্গে দেশের জিডিপির আকারও সম্পর্কিত। রফতানি আয় বাড়িয়ে দেখানোর মাধ্যমে জিডিপির আকার, প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ও বেশি দেখানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জিডিপির অনুপাতে কর-রাজস্ব আহরণ বাড়াতে আইএমএফের পক্ষ থেকে সরকারকে চাপ দেয়া হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, সরকারের হিসাবে প্রতি বছরই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। প্রবৃদ্ধি হলে সে অনুপাতে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়ার কথা। কিন্তু উল্টো সেটি কমছে।
দেশের রিজার্ভের প্রকৃত পরিমাণ কত সেটি নিয়েও এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে জিডিপির আকার ও প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেখানো হলেও মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেখানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিসংখ্যান তৈরির আগের কাঠামো বহাল এবং অতীতের সব পরিসংখ্যান সংশোধনে সার্বিক উদ্যোগের ঘাটতি থাকায় এখনো আগের অতিরঞ্জিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান থেকে বের হতে পারছে না।
এই খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, কারা-কেন এভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যই-বা কী ছিল?
সংবাদপত্রটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সোমবারের কর্মসূচিতে কিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ছিল, তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের মিছিল-সমাবেশ থেকেই হামলা-ভাঙচুরে উসকানি দেয়া হয়। পরে লুটপাটকারীরা সুযোগ নেয়।
সোমবার এসব ঘটনার পরপরই তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সারাদেশে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজারেও এদিন হামলা-ভাঙচুরের বিষয়ে এক ব্যবসায়ী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবজমিনকে জানান, সেখানে মিছিলের নেতৃত্বে ছিল শিবির ও তাদের অনুসারী সমন্বয়ক নেতারা। আগে পিছে পুলিশও ছিল। বাইরে থেকে কেউ মিছিলে ঢুকে ভাঙচুর করার সুযোগ নেই। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং তা মিছিলে অংশগ্রহণকারীরাই করেছে।