ড. ইউনূস বাংলাদেশের উন্নয়নে আমেরিকান কোম্পানিগুলোর অবদানের জন্য নির্বাহীদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিবন্ধকতা দুর করতে এবং ব্যবসা সহজীকরণে অন্তর্বর্তী সরকারের পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অনলানই ডেস্ক: বিনিয়োগে অবদান রাখার জন্য চার ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বুধবার চার দিনব্যাপী বিনিয়োগ সম্মেলনের তৃতীয় দিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ পুরস্কার প্রদান করেন।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড (বিডা) এর আয়োজনে ৭ এপ্রিল থেকে চলছে এ সম্মেলন। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন ওয়ালটন (দেশি বিনিয়োগকারী) বিক্যাশ (বিদেশি বিনিয়োগকারী), স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস ও ফেব্রিকস। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এছাড়া বিশেষ ক্যাটাগরিতে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের চেয়ারম্যানকে সম্মান সূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’-এর উদ্বোধন করবেন তিনি।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিজনেস সামিটের তৃতীয় দিনে স্টারলিংকের পরীক্ষামূলক ব্যবহারও উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মাধ্যমে মহাকাশ ভিত্তিক কৃত্রিম উপগ্রহের ইন্টারনেটের ব্যবহারে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
জানা গেছে, বুধবারের সেশনে যুক্ত হয়ে ড. ইউনূস বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরবেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য তিনি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবেন।
আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনে’ অংশগ্রহণকারীরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন। স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই সম্মেলনের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
চার দিনব্যাপী বিজনেস সামিটের ২ দিনে ইতোমধ্যে চীন, কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কয়েকটি বিদেশি ব্যাংক ইতোমধ্যে লোনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
এরই মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অফিশিয়াল কার্যক্রম শিথিল ও জ্বালানি নীতি তৈরির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সম্মেলনের তৃতীয় দিন বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূস।
এর আগে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছ থেকে বিনিয়োগের নিবন্ধন নিয়েছে স্টারলিংক। গত ২৯ মার্চ এই নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। অবশ্য ইন্টারনেট-সেবা দিতে স্টারলিংককে বিটিআরসির কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।
গত ৬ মার্চ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ স্টারলিংককে নিবন্ধন দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের (স্টারলিংক) ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার পরিপ্রেক্ষিতেই ২৯ মার্চ স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ভুটানে স্টারলিংকের সেবা চালু হয়েছে। এবার বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক সংযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় বিনিয়োগকারীরা গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক উপকারী বাণিজ্যিক সম্পর্কের অনুঘটক ও সমর্থন করতে সহায়তা করার কাজে জয়ী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও এক্সিলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টা পিটার হাসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন-মেটা, ভিসা,শেভরন, উবার, মেটলাইফ, মাস্টারকার্ড, বোয়িং ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা। এক্সিলারেট এনার্জি ইউএস চেম্বার অব কমার্সের ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি।
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মার্কিন কোম্পানিগুলো একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সমর্থন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কের জন্য তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গল্পে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা স্থিতিস্থাপকতা, উদ্যোক্তা ও দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বাণিজ্য ও শুল্ক বহির্ভূত বাধা-বিপত্তি দূর করতে অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রগামী মনোভাবকে স্বাগত জানান প্রতিনিধি দলটি।
এর আগে ডিএফসির ডেপুটি সিইও এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিশা দেশাই বিসওয়াল বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা এবং আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ কী পদক্ষেপ নিতে পারে তা চিহ্নিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি।
চলমান শুল্ক আলোচনার কথা উল্লেখ করে নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূলে রয়েছে মার্কিন কোম্পানিগুলো। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, বাংলাদেশ এই আলোচনার মাধ্যমে কার্যকরভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে।
ড. ইউনূস বাংলাদেশের উন্নয়নে আমেরিকান কোম্পানিগুলোর অবদানের জন্য নির্বাহীদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিবন্ধকতা দুর করতে এবং ব্যবসা সহজীকরণে অন্তর্বর্তী সরকারের পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।