‎ঝিনাইদহে আটক সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুসহ দুই জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি, কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ

Mofossal Barta
প্রকাশিত October 29, 2026, 18:29 PM
‎ঝিনাইদহে আটক সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুসহ দুই জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি, কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬:ঝিনাইদহে সরকারি কাজে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে কথিত চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে থাকা সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুসহ দুই জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
‎
‎বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম নবী এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নান।
‎
‎আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুম বিল্লাহ ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত এক দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতের নির্দেশে অরিত্রর জব্দকৃত মোবাইলের পাসওয়ার্ড থানা পুলিশের নিকট দেওয়া হয়েছে।
‎
‎এ বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
‎
‎এদিকে আজ বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের শীর্ষ স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার রোকনুজ্জামানের কাছে সাংবাদিক অরিত্র ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎
‎কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ, জেল সুপারের বক্তব্য:
‎এদিকে অরিত্রকে জেলখানায় কনডেম সেলে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝিনাইদহ জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের সঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ফোনে সত্যতা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।”
‎
‎কী ধরনের নিরাপত্তা জানতে চাওয়া হলে হাবিবুর রহমান জানান, “বন্দীদের সাথে রাখা হলে যেকোনো ধরনের ক্ষতি হতে পারে তাই তাকে ওখানে রাখা হয়, এছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।”
‎
‎উল্লেখ্য, কারা বিধি অনুযায়ী কনডেম সেল শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত। চাঁদাবাজির মতো সাধারণ মামলায় বিচারাধীন কোনো আসামিকে সেখানে রাখার বিধান নেই।
‎
‎সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া: এ বিষয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, “গত দুই তিন ধরে অরিত্রের সঙ্গে যা হচ্ছে তা যথেষ্ট বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। আমরা জানতে পেরেছি, ঝিনাইদহের সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে মুখ খুলতে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হচ্ছে।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, “আমরা ঐ এলাকার কৃতি সন্তান আইন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কী কারণে অরিত্রের ওপর এমন অবিচার করা হচ্ছে তা আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। অরিত্রর বিরুদ্ধে আরও কঠিন মামলা তৈরি করা হচ্ছে। তবে বেশি বাড়াবাড়ি করা হলে তা সহ্য করা হবে না এবং সাংবাদিকদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করতে ঝিনাইদহের প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করা যাচ্ছে।”
‎
‎এদিকে এ মামলাটি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে পরিচালনা করা হতে পারে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
‎
‎প্রশ্ন উঠছে ফাঁসির আসামিদের জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে কেন একজন পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিককে রাখা হচ্ছে? রাষ্ট্রকে এর জবাব দিতে হবে।