অনলাইন ডেক্স,
দেশে বিগত ৪ দশকে ইসলামকে পুঁজি করে অলিতে গলিতে মাদরাসা তৈরি হয়েছে, যেখানে চাষ হয় ধর্মের নামে ভয়ের সংস্কৃতি। এমন মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তিনি।
একজন হেনস্থাকারী ধর্মীয় লেবাস পড়লেই তার কর্মকান্ড জায়েজ হয়ে যায়? ধর্মীয় শিক্ষার নামে গ্রামে-গঞ্জে মহামারীর মতো ফতোয়াবাজদের ছড়াছড়ি। ছোটবেলায় আমাদের বলা হতো, ধর্ম মানেই হচ্ছে কোনটা করতে পারব ‘না’। হালাল আর হারামের সীমানায় আমাদের রূহকে বেঁধে দেন ধর্মীয় শিক্ষকরা, অথচ বিধিনিষেধের আড়ালে আমাদের মনুষ্যত্ব, আমাদের কলব সীমায়িত হতে থাকে। আমরা ইসলামকে কিভাবে অন্যদের নিপীড়নে ব্যবহার করতে হয় এটা জাতিগতভাবেই আয়ত্ত করেছি, যখন অন্যের থেকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে পারব তখন কোরান শরীফের আয়াতের অভাব হয় না।
কারণ আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা যারা দিবেন তাদের দ্বীন পরিষ্কার না। যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের দাবি করেন, আপনারা নিজেদের প্রশ্ন করুন, যে হুজুর একজন শিশুকে হেনস্থা করার চিন্তা করতে পারে, তিনি কি দ্বীনী শিক্ষা দেয়ার যোগ্যতা রাখেন?
আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত দেওবন্দ মাদ্রাসা একসময় মওলানা ভাসানীর মতো জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি করেছিল যিনি পাকিস্তান আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ পর্যন্ত সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একেবারেই তুলনাযোগ্য না, তবে প্রশ্ন তো আসবে যে কেন আমাদের দেশে ইসলামের আধ্যাত্নিক পাঠের জন্য বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠিন গড়ে উঠল না! বিপরীতে, বিগত ৪ দশকে ঠিকই ইসলামকে পুঁজি করে অলিতে গলিতে মাদ্রাসা তৈরি হয়েছে, যেখানে চাষ হয় ধর্মের নামে ভয়ের সংস্কৃতি আর অপরিপক্ক Frontal lobe. আবার এই বিপুল অংশের জনগোষ্ঠীকে আপাত অক্ষম করে রাখার মধ্য দিয়ে আমাদের কথিত ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো উপকৃত হয়, কতটুকু তারা ধর্মীয় শিক্ষার রাজনীতিকরণে সময় দেন, আর কতটুকু সমাজে ধর্মীয় আধ্যাত্নিকতা ছড়িয়ে দিতে সময় দেন সে প্রশ্ন তাদের কর্মীদেরই করা উচিত।
সবশেষে, যে ভাইটি নিজের কন্যাসন্তানের উপর হওয়া নিপীড়নের জবাব থাপ্পড়ে দিয়েছেন তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। যে মানুষ চিন্তায় উলঙ্গ, তাকে সম্মান দেখানোটা নিজেদের সম্মানেরই অপচয়।