গাজীপুরে সাংবাদিক রিপনকে অপহরণ-নির্যাতন: গ্রেপ্তার ২

Mofossal Barta
প্রকাশিত October 29, 2026, 21:05 PM
গাজীপুরে সাংবাদিক রিপনকে অপহরণ-নির্যাতন: গ্রেপ্তার ২
সংবাদটি শেয়ার করুন....

‎মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান ঃ- গাজীপুরে সাংবাদিক রিপনকে অপহরন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে গাজীপুর গণমাধ্যম কর্মীরা।
‎মানববন্ধনে গণমাধ্যমকর্মীদের ঘোষণা—আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে সারা দেশে আন্দোলন,ছড়িয়ে দেয়া হবে
‎বলে ঘোষনা দেয় সংবাদ কর্মীরা ।
‎গাজীপুরে দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন, এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন মানববন্ধনে । এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে বিগত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী দল সাংবাদিক রিপনের ওপর হামলা চালালেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২( দুজন)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমা কোনো ভুমিকা দেখা যাচ্ছে না বিধায় ২৯ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল অনুমান ৪ ঘটিকার দিকে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ‘জাতির কণ্ঠ’ পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
‎মানববন্ধন ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা ।
‎মানববন্ধনে বক্তারা পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, গত ২৬ অক্টোবর দুপুরে একজন সাংবাদিককে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় নি বরং সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন কি না?
‎একজন গণমাধ্যমকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এমন প্রশ্নও তোলেন মানববন্ধনে।
‎বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,অবিলম্বে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় গাজীপুর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
‎মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজবিরোধী নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল এস-এর গাজীপুর প্রতিনিধি মো. মোছাদ্দিকুর রহমান হাজ্বী মুসা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক গণকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার শেখ জিসান।
‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘জাতির কণ্ঠ’-এর প্রকাশক তানজিল মাহমুদ হিমেল ও সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম রুবেল। প্রকাশক তানজিল মাহমুদ হিমেলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
‎এ সময় বক্তব্য দেন গাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. নাসির উদ্দিন, মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজবিরোধী নাগরিক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাঈল হোসেন, গাজীপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের প্রতিনিধি মো. টুটুল, মানবাধিকারকর্মী আবুল কাশেম, দৈনিক নববাণীর গাজীপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম মাসুদ, আজকের বসুন্ধরার প্রতিনিধি মোঃ অভি, ময়না আক্তারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
‎ একজন সাংবাদিককে অপহরণ, নির্যাতন, চাঁদা দাবির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি বলে মনে করেন বক্তারা।
‎তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিক রিপন সহ বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। হামলার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা মাদক কারবারিদের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা-ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে। সাংবাদিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
‎বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে। তাঁরা পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে আরও বলা হয়, সাংবাদিক রিপনের ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাংবাদিক রিপনের অভিযোগ, বিগত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর অনুমান ২( দুই)ঘটিকার সময় গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী বাজার এলাকার সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্স-সংলগ্ন হোন্ডা রোডের সামনে থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয়। তিনি দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে পেশাগত সংবাদ সংগ্রহের কাজে সেখানে গিয়েছিলেন। রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দিকে রওনা হওয়ার সময় একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের ঘিরে ধরে। পরে তাঁকে মোটরসাইকেলসহ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর হাত, চোখ ও মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন । সাংবাদিক রিপনের অভিযোগ, অপহরণের পর তাঁকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় পাশাপাশি মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় এবং অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক আপত্তিকর অবস্থায় রেখে ভিডিও ধারণ করে । পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ও হুমকি দেয় অপহরণকারীরা বলে রিপনের দাবি করেন এ সময় তাঁর কাছে থাকা দুই লাখ টাকা, মোটরসাইকেলের হেলমেট ও দৈনিক কালবেলার পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার