গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি স্থাপনা দখলের অভিযোগ, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার দাবি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

Mofossal Barta
প্রকাশিত October 17, 2026, 21:12 PM
গোপালগঞ্জের  টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি স্থাপনা দখলের অভিযোগ, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার দাবি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার :- বিশেষ প্রতিনিধি।
‎
‎গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সরকারি স্থাপনা দখল করে বসবাস ও সেখানে অবৈধভাবে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আলতাব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রশাসনকে অবহিত করার পর পাটগাতী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুর ইসলামের বিরুদ্ধে সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গিমাডাঙ্গা আজিমবাজার এলাকায় জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্মিত একটি সরকারি চান্দী (হাটের শেড) দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে আলতাব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই স্থানে চিকিৎসার নামে যৌনক্ষমতাবর্ধক ট্যাবলেট বিক্রির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, এসব ওষুধের বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ওষুধের বৈধতা, বিক্রির ধরন এবং কথিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরী ।
‎
‎স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, জনস্বার্থে নির্মিত সরকারি স্থাপনা কীভাবে ব্যক্তিগত বসবাসের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে? তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন সামাজিক ব্যক্তিত্ব গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটির (এনপিএস) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারকে অভিযোগ জানান। পরে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানান। তাঁর দাবি, সরকারি স্থাপনাটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের বিষয়টি তিনি প্রত্যক্ষ করেন।
‎
‎বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিদারুল ইসলামকে প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরে প্রমাণসহ হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে অবহিত করেন। ইউএনও বিষয়টি তদন্তের জন্য পাটগাতী ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে নির্দেশ দেন বলে তিনি জানান। পরে তহশিলদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি যাচাই করেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারের অভিযোগ, সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা নুর ইসলাম তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁকে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলেন। এ সময় নুর ইসলাম তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তোমার বিরুদ্ধে অনেক রিপোর্ট রয়েছে, আমার স্পটে পড়লে তখন দেখে নিবো”—এমন অভিযোগ করেছেন বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার। তাঁর দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
‎
‎বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, জনস্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং মানবাধিকারকর্মী হিসেবে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করাই তাঁর উদ্দেশ্য। এ দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হলে তা উদ্বেগজনক।
‎
‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত পল্লিচিকিৎসক লুৎফর ও স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ হাবিল মোল্লা এ ঘটনার সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁরা সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
‎
‎এদিকে ভ্যানচালক বোরহান নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, নুর ইসলাম বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় পারিবারিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তাঁকেও চাপ প্রয়োগ করেছেন।
‎
‎সরকারি স্থাপনা দখল, অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও দলীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
‎
‎এ বিষয়ে নুর ইসলামের সরাসরি উত্তেজনাপূর্ন বক্তব্যের ভিডিও প্রমান ব্যাকগ্রাউন্ড ক্যামেরায় সংগৃহীত রয়েছে গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে প্রমান হিসেবে।
‎
‎
‎অন্যদিকে, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটির গোপালগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।