চোখের সামনে ভেসে যেতে দেখলাম স্ত্রী-সন্তানকে

Mofossal Barta
প্রকাশিত August 27, 2026, 14:11 PM
চোখের সামনে ভেসে যেতে দেখলাম স্ত্রী-সন্তানকে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

‎নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ স্রোত রাশুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ করে দেয়। বন্যায় পুরো বসতি ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বাজার কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে।

‎এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৩ জন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক, যাদের বেশিরভাগই কৈলাস মানসসরোবরের তীর্থযাত্রী বলে জানিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

‎প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ার পর এ বন্যা দেখা দেয়। লেন্দে উপনদীর প্রবাহ হিমবাহ ধসে বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর হঠাৎ পানি জমে যায় এবং পরে সেই পানি প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে আসে। প্রথমে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রাসুয়াগাধির কাছে তিমুরে এলাকায় আঘাত হানে বন্যার স্রোত।

‎নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের এক ব্যবসায়ী এনডিটিভিকে বলেন, বন্যার আগে প্রশাসনের লোকজন এসে তাদের সতর্ক করে উঁচু এলাকায় চলে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু সময় ছিল খুবই কম।

‎তিনি বলেন, ‘সেকেন্ডের মধ্যেই অনেক মানুষ ভেসে যায়। চোখের সামনে আমার ১৮ বছরের ছেলে ও স্ত্রীকে ভেসে যেতে দেখলাম। তারা এখন নিখোঁজ।’

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই দিন এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হচ্ছিল না। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই দৈনন্দিন কাজ করছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের ওপর থেকে বিশাল পানির ঢল নেমে আসে।

‎রাসুয়ার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, তিনি প্রথমে মাটি কাঁপতে অনুভব করেন। বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখেন, ধোঁয়ার মতো কিছু সঙ্গে নিয়ে বিশাল পানির দেয়াল তিমুরে বাজারের দিকে ধেয়ে আসছে।

‎তার ভাষায়, পানির ঢেউটি প্রায় ১০০ মিটার উঁচু হয়ে বাজারের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাজার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

‎বন্যার ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে ধুঙ্গানাসহ আরও অনেকে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। রাসুয়াগাধি শুল্ক চেকপোস্টে অপেক্ষমাণ ৩০০টিরও বেশি গাড়ি ও ট্রাকও পানির স্রোতে ভেসে যায়।