হত্যার আগে প্রাণ বাঁচাতে কয়েকটি ধানক্ষেতে দৌড়েছিল শিক্ষার্থী তাজমিন

Mofossal Barta
প্রকাশিত October 9, 2026, 09:28 AM
হত্যার আগে প্রাণ বাঁচাতে কয়েকটি ধানক্ষেতে দৌড়েছিল শিক্ষার্থী তাজমিন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ফসলি জমির মাঠে এ চিত্র দেখা যায়। সেখানকার একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
‎
‎
‎জানা যায়, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নির্জন পাকা সড়ক। সড়কের দুপাশ জুড়ে বিস্তৃত সবুজ মাঠ। সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন রয়েছে। ক্ষেতের মধ্যে থাকা মাথা তোলা ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে তাজমিন জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সড়কের একপাশে ধানক্ষেতে পড়েছিল সিএনজি চালিত অটোরিকশা। পরে সেটিকে স্থানীয়রা টেনে সড়কের ওপর তোলেন।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ধানক্ষেতে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পায় স্থানীয়রা। সিএনজিটির ২০ থেকে ৩০ গজ দূরেই একটি ভ্যানেটি ব্যাগ দেখতে পান তারা। আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন। সেই চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে একটি ধানক্ষেতে গিয়ে দেখেন একটি নারীর লাশ পড়ে আছে। লাশের মাথা কাদায় গাড়ানো ছিল। পুরো শরীর বস্ত্রহীন। গলায় গামছা প্যাঁচানো। পরে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলে একটি গামছা দিয়ে নগ্ন শরীর ঢেকে দেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে ঘটনার খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। সংবাদপড়ুন
‎
‎তাদের মতে, যারাই মেয়েটিকে মেরেছে, তারা মেয়েটিকে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে। সেটি ধানক্ষেতের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। মেয়েটি সম্ভবত নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পেরে ওঠেনি।
‎
‎তারা আরও জানায়, সিএনজিটি কেন এভাবে ধানক্ষেতে পড়েছিল তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সিএনজিটি যদি হত্যাকারীদের হয়ে থাকে, তবে তারা সেটি ফেলে গেল কেন, কীভাবেই বা তারা ঘটনাস্থল থেকে গেল? তবে পুলিশি তদন্তে সব বের হবে বলে আশা করছেন তারা।
‎
‎
‎কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে হত্যার বিবরণ জানা যাবে।
‎
‎পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি রেজিস্ট্রেশনকৃত। আমরা সেটির সূত্র ধরে এগুচ্ছি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
‎
‎এদিকে, নিহত তাজমিনের মরদেহ নিয়ে যশোরে গ্রামের বাড়ি পৌঁছেছেন তার স্বজনরা। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা থেকে যশোরের দিকে রওনা দেন তারা। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।