অনলাইন ডেক্স,
প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তা জানাজানি হওয়ায়, পারিবারিক কলহের জেরে বেড়ানোর কথা বলে স্ত্রীকে ইঞ্জিনচালিত সাম্পানে তুলে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে স্বামী ও তার সহযোগীরা। গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় কর্ণফুলী নদীর শিকলবাহা খালে ঘটা এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই মাস পর আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮)। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার জানান, রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে জান্নাতুলকে বিয়ে করলেও পরে তাঁর প্রথম স্ত্রীর তথ্য ফাঁস হলে দুজনের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় জান্নাতুলকে ঘোরানোর কথা বলে ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা। সেখান থেকে সহযোগীদের নিয়ে একটি সাম্পান নৌকায় করে শিকলবাহা খালে প্রবেশ করার পর বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে জান্নাতুলের ফোন কেড়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর মুখ চেপে ধরে রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং হাত-পা বেঁধে লাশ বস্তাবন্দী করে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মায়ের করা মামলায় পিবিআই ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া মুসলিম উদ্দিন ও রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে প্রধান অভিযুক্ত স্বামী রাজা মিয়া এখনো পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।