পশুখাদ্য সরবরাহে সিন্ডিকেট! ‎আসল ঘটনা উদঘাটন

Mofossal Barta
প্রকাশিত November 3, 2026, 18:42 PM
পশুখাদ্য সরবরাহে সিন্ডিকেট!  ‎আসল ঘটনা উদঘাটন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিনিধি:
‎”কেঁচো খুঁড়তে সাপ” ঘটনাটি যেন এই প্রবাদবাক্য কে-ই মনে করিয়ে দিচ্ছে। ঘটনাটি বাংলাদেশ প্রাণী গবেষণা ইন্সটিটিউট( বিএলআরআই)সাভার ও বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন খামারে পশুখাদ্য সরবরাহকে কেন্দ্র করে।গত বছরের মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাফিজুর- হিলটন -বিমলের ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্রে বাধা বিএলআরআই সহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। , উক্ত প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে। ঠিকাদার হাফিজুর রহমান বিগত ১৬ বছর বিএলআরআই -এ পশু খাদ্য সরবরাহ আসছে, আমিও আওয়ামী নেতাদের সাথে সমঝোতা করে উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা রেখেছেন,তাকে কাজ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন কর্তা ব্যক্তিরা, উক্ত প্রতিবেদনে আরো প্রকাশ পাই হাফিজুর রহমান নামে বেনামে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করে আসছেন,প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় ঠিকাদার হাফিজুর রহমানকে কাজ পাইয়ে দিতেই টেন্ডারে অযাচিত শর্ত জুড়ে দেয়া হতো, এমনকি ২৫/২৬টি আইটেমকে একটি “লট” করে টেন্ডার আহবান করা হতো যাতে করে একক ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।ঠিক একই অভিযোগ আনা হয় কেন্দ্রীয় গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার সাভার,সরকারি ছাগল উন্নয়ন কেন্দ্র সাভারের পশু খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়।
‎সম্প্রতি বিষয়টি নিরপেক্ষ ভাবে অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসতে শুরু করে থলের বিড়াল।
‎ঠিকাদার মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,তিনি ১৬বছর নয়, বিগত ২৬বছর যাবৎ উক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে পশু খাদ্য টেন্ডার অংশগ্রহণ করে আসছেন এবং সুনামের সাথে পশু খাদ্য সরবরাহ করে আসছেন , অর্থাৎ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের আগে বিএনপি সরকারের সময়ও কাজ করেছেন, তাহলে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন এসে যায় তাহলে হাফিজুর রহমান কিভাবে ফ্যাসিবাদী চক্রের হোতা হন? এর পিছনের কারণ হলো,একটি মহল ব্যবসায়ীক ভাবে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে যার কোনো ভিত্তি নেই। দ্বিতীয় অভিযোগ হলো:মোঃ হাফিজুর রহমান নামে-বেনামে ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করেন।এবিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর Public Procurement Rules (PPR), 2025 এবং সংশোধিত Public Procurement Act, 2006 অনুযায়ী সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে একই ব্যাক্তির মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠান একই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।কিন্তু উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ৫ ব্যাক্তি ফলে এখানেও হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
‎
‎তৃতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো:মোঃ হাফিজুর রহমানকে কাজ পাইয়ে দিতে অনেক প্রায় ২৫টি আইটেম কে একটি “লট” করে এবং টেন্ডার অযাচিত শর্তারোপ করা হয়। এ বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়,বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের প্রাণিসম্পদ সেক্টর এর গবেষণার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে পোল্ট্রি নিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার নির্মিত অর্থবছরের শুরুতেই উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারে নিকট হতে প্রাণী ও পোল্ট্রি খাদ্য সরবরাহ নিয়ে থাকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পোল্টির যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে গবেষণার জন্য যথাযথ তথ্য উপাত্ত পাওয়া সম্ভবপর নয়। অন্যদিকে একাধিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে একাধিক লটে খাদ্য আইটেম প্রয়োজনীয় সময়ে সঠিক উপাদান প্রাণী ও পোল্টির রেশন ফর্মুলেশন বাধাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । পাশাপাশি কার্যক্রম ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ফলে সব আইটেমকে একটি “লট”আকারে টেন্ডার করার এবং মান খাদ্যের মান নির্ণয়ের জন্য করা শর্তারোপ এটা নিতান্তই বি এল আর আই তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বিষয় এখানে ঠিকাদার হাফিজুর রহমানের কোন হাত নেই তবুও এর জন্যও হাফিজুর রহমানকে প্রশ্ন বৃদ্ধ করা হয়।
‎উপরোক্ত বিষয় গুলো গভীর ভাবে দেখলে দেখা যায় যে, পূর্ব প্রকাশিত প্রতিবেদন ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, উক্ত প্রতিবেদনের আলোকে জুলাই ২০২৫ সালে উচ্চ পর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং উক্ত তদন্ত কমিটিও ঘটনার সত্যতা খুঁজে পাইনি।
‎এবিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি করে আসছি,কেউ আমার সুনাম ব্যহত করার জন্য অপচেষ্টা করে থাকতে পারে, তবে আমার বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ মিথ্যা।
‎এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার সাভার এর পরিচালক ডাঃশহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বর্তমানে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট প্রথা চালু থাকা অসম্ভব। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি, ঠিকাদার হাফিজুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
‎এদিকে একই রকম কথা বললেন সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামার সাভার এর পরিচালক ডা:জাহাঙ্গীর আলম।
‎অন্যদিকে বিএলআরআই সাভারের দুজন সাবেক মহাপরিচালক ডা.নজরুল ইসলাম ও ড.নথুরাম সরকার যারা উল্লেখিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা উভয়ই বলেন, বিএলআরআই একটি গবেষণা মূলক প্রতিষ্ঠান এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই, এখানে সিন্ডিকেট প্রথাজারী বা পছন্দের কাউকে কাজ দেওয়ারও সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে বর্তমান ডিজি ড.শাকিলা ফারুক সাথে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায় নি।