উবারকর্মীদের জন্য দুঃসংবাদ, কোভিডের পর সবচেয়ে বড় ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 3, 2026, 12:49 PM
উবারকর্মীদের জন্য দুঃসংবাদ, কোভিডের পর সবচেয়ে বড় ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

কোভিড-১৯ মহামারির পর সবচেয়ে বড় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি ও পরিবহনসেবা প্রতিষ্ঠান উবার। কোম্পানিটি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করবে, যা তাদের মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ। রোবোট্যাক্সির দ্রুত বিস্তার এবং রাইড-হেইলিং ব্যবসায় বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‎বুধবার (২ স্পেম্বর) কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারা খোসরোশাহী জানান, ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তর কমানো হবে। এতে প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক জটিলতা কমবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে। তিনি বলেন, ‘আরও ছোট ও দক্ষ সংগঠন হলে দায়িত্ব আরও স্পষ্ট হবে, সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া যাবে এবং সমন্বয়ের চেয়ে নতুন কিছু তৈরিতে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে।’ এতে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা তৈরিতে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।

‎এবারের ছাঁটাইয়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) দায়ী করেননি খোসরোশাহী। চলতি বছর প্রযুক্তি খাতে এআই ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই হলেও উবারের ক্ষেত্রে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্গঠন ও রোবোট্যাক্সির বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা।

‎বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের রোবোট্যাক্সি প্রতিষ্ঠান ওয়েমোর সঙ্গে উবারের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ওয়েমোর চালকবিহীন গাড়ি বর্তমানে উবারের অ্যাপের মাধ্যমে অস্টিন ও আটলান্টায় যাত্রী পরিবহন করছে। একই সঙ্গে উবারের প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও নতুন বাজারে বিস্তৃত হচ্ছে ওয়েমো। টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানও রোবোট্যাক্সিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

‎এই পরিস্থিতিতে চালকনির্ভর ব্যবসার পাশাপাশি চালকবিহীন পরিবহন খাতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে আগামী কয়েক বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে উবার। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করে চালকবিহীন যাত্রার বড় প্ল্যাটফর্ম হতে চায় তারা।

‎ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি উবার ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনছে। সিইওর নিচে সাত বা তার বেশি স্তরে থাকা কর্মীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমানো হবে। এক বা দুইজনকে সরাসরি তত্ত্বাবধান করা ছোট দলগুলোর সংখ্যাও প্রায় অর্ধেক করা হবে। কিছু দল একীভূত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কেন্দ্রে কর্মীদের উপস্থিতি কেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া পুরোপুরি দূরবর্তীভাবে কাজের সুযোগ মোট কর্মীর প্রায় ১ শতাংশে সীমিত করা হবে। তবে সপ্তাহে তিন দিন অফিসে কাজের বর্তমান নীতি বহাল থাকবে।