সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকৃত তথ্য জানাতে হবে

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 2, 2026, 13:16 PM
সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকৃত তথ্য জানাতে হবে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শহর থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষের জীবনযাপন বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরে মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভাদ্রের এই গরমে তারা হাসফাঁস করছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থবিরতা তো বিলাজ করছেই, মানুষের দৈনন্দিন জীবনও জেরবার হয়ে গেছে। রান্নাবান্না, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। যতই দিন যাচ্ছে, সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সরকারের উপর মানুষের ক্ষোভ ও বিরক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র প্রকাশিত হচ্ছে। সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও মানুষের এই দুর্দশার সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের এই সংকট এখন সরকারের প্রধান সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি, যেসব সাধারণ মানুষ সরকারের সমর্থক, তারাও সমালোচনা করছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, গ্যাস-বিদ্যুৎ এমন উপকরণ, যার সংকট ধনী-দরিদ্র থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের উপর পড়ে। এর জন্য তারা সরকারকেই দায়ী করে। সরকার যতই সংকটের বাস্তব কারণের কথা বলুক না কেন, তা তারা মানতে চায় না। তাদের কথা, সরকার কীভাবে সংকট কাটাবে, সেটা সে দেখবে। জতাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছি আমাদের ভালো-মন্দ দেখার জন্য। সাধারণ মানুষ এর বাইরে চিন্তা করতে চায় না। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার তাদের এই চিন্তা কতটা উপলব্ধি করছে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকা অমূলক নয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কেন, এর কারণ কি, সংকট কাটাতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, কবে নাগাদ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে, এ নিয়ে সরকারের তরফ থেকেও জনগণকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে না। সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, জনগণ তা শুনতে ও জানতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে এই অবহিত করার ঘাটতির কারণে জনগণ ক্রমেই নাখোশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

‎গ্যাস-বিদ্যুতের যে সংকট চলছে, তা এখন একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধীদলের কাছে এটি একটি ‘পপুলার ইস্যু’তে পরিণত হয়েছে। সঙ্গতকারণেই তারা এই ইস্যু নিয়ে মাঠে নামবে এবং সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরবে। জগণের কাছেও এই সংকট ‘মেজর ইস্যু’। বিরোধীদল এখন এই ইস্যুকে ক্যাশ করে ফেলেছে। এ নিয়ে ১১ দলীয় বিরোধী জোট লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন, চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ, জ¦ালানি সংকট ও জনগণের অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে ১১ দলীয় বিরোধী জোট এই লংমার্চ কর্মসূচি দিয়েছে। বলা বাহুল্য, বিরোধীদল এই জনদুর্ভোগ ও সরকারের ব্যর্থতার কথা বলে রাজনীতি করবে, এটা স্বাভাবিক। তাদের এই জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি সমর্থনও পাবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুতের এই সংকটের পেছনে ইরানযুদ্ধ কারণ হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা ও চরম অব্যবস্থাপনাও কারণ হয়ে রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের মধ্যে থাকা একটি শ্রেণী সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা চলাচ্ছে। এক্ষেত্রে তথ্যগত ঘাটতি বা মিসইনফরমেশন বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মতৎপরতা ও যেকোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা রয়েছে।