মানুষের কষ্ট আমাকে পথ দেখিয়েছে রুনা খান

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 2, 2026, 11:45 AM
মানুষের কষ্ট আমাকে পথ দেখিয়েছে রুনা খান
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

এশিয়ার নোবেলখ্যাত ৬৮তম র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। দুর্গম চর ও নদীবেষ্টিত এলাকার প্রান্তিক মানুষের জীবন বদলে দিতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন তিনি। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সাহস ও মানবিক দর্শনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন। ২০০২ সালে একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা ফ্রেন্ডশিপ এখন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা, জীবিকা, নাগরিক অধিকারসহ নানা ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। পুরস্কার ঘোষণার পর গতকাল মঙ্গলবার সমকাল-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় রুনা খান বলেছেন তাঁর দীর্ঘ পথচলা, প্রান্তিক মানুষের ব্যথা, ফ্রেন্ডশিপের অর্জন, মূল্যবোধ ও আগামী দিনের স্বপ্নের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সমকাল-এর বিশেষ প্রতিনিধি সাব্বির নেওয়াজ।

‎এশিয়ার নোবেলখ্যাত র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ার খবরটি প্রথম যখন শুনলেন, তখন কেমন অনুভূতি হয়েছিল?

‎রুনা খান: প্রথমে অবশ্যই খুশি হয়েছিলাম। তবে সেই খুশি ‘আমি এটা করেছি’– এমন ছিল না; বরং মনে হয়েছিল, আল্লাহকে ধন্যবাদ। যারা ২৫ বছর ধরে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, আমাদের সঙ্গে হেঁটেছে, তারা এখন অনুভব করবে– তাদের বিশ্বাস সঠিক ছিল। আমাদের সঙ্গে যারা কাজ করেছে, গত ২৫ বছর ধরে যাদের নিষ্ঠা ও শ্রম রয়েছে, তাদের সবার কথা মনে পড়েছে। অনেকে কাজ করে চলে গেছে, কেউ বিদেশে গেছে; কিন্তু তাদের অবদানও কম নয়। আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীরাও সব সময় মাঠে এসে কাজ দেখতে পারেনি। তারা শুধু আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

‎এই পুরস্কার শুধু কাজের স্বীকৃতি নয়; মহানুভবতা, নেতৃত্ব এবং সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে যা অর্জন করা হয়েছে, তারও স্বীকৃতি। আমার কাছে মূল্যবোধ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে কাজ আমি বিশ্বাস করি না, তা করব না। যে পথে বিশ্বাস নেই, সে পথে হাঁটব না। যে মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করতে হয়, সে কাজও করব না। আমাদের সংগঠন শুরু থেকেই এই মূল্যবোধ ধারণ করে এগিয়েছে। তাই এই স্বীকৃতি আমার কাছে শুধু আনন্দের নয়, এটি আবারও বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মতো।