মৃত মায়ের সরকারি পাওনা তুলতে সন্তানের কাছে ঘুষ দাবি, শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 13, 2026, 12:57 PM
মৃত মায়ের সরকারি পাওনা তুলতে সন্তানের কাছে ঘুষ দাবি, শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

মৃত মায়ের সরকারি পাওনার ১০ লাখ টাকা পেতে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছিলেন তার ১৭ বছর বয়সী সন্তান শাহেদ শরীফ আহমেদ।

‎অভিযোগের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে শোকজ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তিন দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়েছে।

‎গত ৬ সেপ্টেম্বর দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে শো-কজের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে। এর তিন দিন পর, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে বদলি করে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। বদলির কারণ হিসেবে অফিস আদেশে ‘জনস্বার্থে’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুই কর্মচারীকে শোকজ, তদন্ত প্রতিবেদন জমা এবং এর পরপরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তাকে কেন বদলি করা হলো, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। শাহেদের অভিযোগ, তার মা আমিনা খাতুন চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর কল্যাণ তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আরও আট লাখ টাকা পাওয়ার কথা তাদের পরিবারের। সব মিলিয়ে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা পেতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ শাহেদের।

‎তার দাবি, ‘ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না’ বলেও তাদের জানানো হয়। পরে তিনি এ ঘটনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইটে’ অভিযোগ করেন।

‎অভিযোগটি সামনে আসার পর গত ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের স্বাক্ষরিত শো-কজ নোটিশে দুই কর্মচারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

‎অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

‎উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন সিকদার বলেন, আমাদের তিনজনকে শো-কজের বিষয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন গত রোববার জমা দেওয়া হয়েছে। এর বেশি এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে পারছি না।

‎এর তিন দিনের মাথায়, ৯ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।

‎প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) মোছাম্মদ রোখসানা হায়দার স্বাক্ষরিত আদেশে মনিকা পারভীনকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

‎তবে আদেশে বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কোনো অভিযোগ, তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ‘জনস্বার্থে’ বদলির কথা বলা হয়েছে।

‎বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে মনিকা পারভীন বলেন, ‘আমাদের কার্যালয় নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে। বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না, তা আমার জানা নেই।
‎ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো কর্মকর্তা সরকারি আদেশে যেকোনো সময় বদলি হতে পারেন। শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলির পেছনে আলাদা কোনো কারণ আছে কি না, আমার জানা নেই।