অনলাইন ডেক্স,
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে স্বাক্ষর না করতে রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম। তারা আইনটিকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী দাবি করে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, নতুন এই সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সরাসরি কোরআন-হাদিস এবং ইসলামী বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি যেন এতে স্বাক্ষর না করেন, সে অনুরোধ জানান তারা। বিবৃতিতে তারা বলেন, হেবা বা দানের ক্ষেত্রে দানকারী ব্যক্তি দান করা সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার রাখার বিষয়টি মূলত মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের সাথে সম্পর্কিত। তাদের মতে, এ ধরনের সম্পত্তি মিরাস বা উত্তরাধিকার সম্পত্তির আওতায় পড়ে, যার অংশ আল্লাহ নির্ধারিত ওয়ারিশদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এতে পরিবর্তন বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
উলামায়ে কেরাম আরও বলেন, হেবা করার পর দাতা কর্তৃক ওই সম্পত্তি পুনরায় ভোগ করার বিষয়ে শরিয়তে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারা সহিহ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দান করা সম্পদ কেউ ফিরিয়ে নিলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
বিবৃতিতে ওয়াসিয়াত বা অসিয়তের বিষয়েও ইসলামী বিধানের কথা তুলে ধরা হয়। তারা বলেন, শরিয়ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি অসিয়ত করা যায় এবং কোনো ওয়ারিশের জন্য অসিয়ত করা যায় না। সহিহ হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
তারা বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলিম হওয়ায় মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হেবা, মিরাস ও অসিয়তের বিধান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্পত্তি দানসংক্রান্ত নতুন কোনো আইন প্রণয়নের আগে ইসলামী শরিয়াহর নীতিমালার সাথে এর সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে ফতোয়া চাওয়া হলে বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক ৪ ফেব্রুয়ারি একটি ফতোয়া দেন। সেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ ও রাসুল (সা.) নির্ধারিত মিরাস বণ্টননীতি এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হেবা শরিয়তসম্মত নয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন- আল্লামা সাইয়্যেদ কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী, মুফতি মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি আবু জাফর কাসেমী, ড. মুফতি মাওলানা আব্দুস সামাদ, অধ্যক্ষ ড. সামিউল হক ফারুকী, মুফতি আলী হাসান ওসামা, মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী, শায়খ সাইফুল্লাহ নোমানি, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হামিদ ও মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমানসহ আরও অনেকে।