কুয়াকাটা -(পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মত এবার পটুয়াখালীর কলাপাড়াতেও হঠাৎ দেখা মিলল ভয়ংকর রাসেল ভাইপারের। সোমবার(২৪ জুন) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার ধুলাস্বার ইউনিয়নের বৌলতলি গ্রামের নুর হাওলাদার বাড়িতে এ বিষধর সাপটির দেখা মিলে।এ সময় এই সাপটিকে এক নজর দেখতে ভীড় জমিয়েছে উৎসুক জনতা।
সাপটির আওয়াজ শুনে নুর ইসলাম হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করলে স্ত্রীর অনুরোধে পরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেন। পরে একটি প্লাস্টিকের কৌটায় সংরক্ষণ করে স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবককে দেখান।
সাপটিকে উদ্ধার করা মোহাম্মদ নুর ইসলাম বলেন, ঘেড়ের পাশে জাল দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখছি ,এই সাপটি জালে আটকা পরছে,আমার ভাইপো দেখে সাপটি শো শো করে, ধরার জন্য চেষ্টা করেছি ধরতে পারিনি পরে লাঠি দিয়ে চাইপা ধরছি, ধইরা এই বাটায় আটকাইছি।
উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, মারাত্মক বিষধর প্রজাতির এ রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশে এবং কিছুটা শুষ্ক পরিবেশে বাস করে। এরা নিশাচর, এরা খাদ্য হিসেবে ইঁদুর, ছোট পাখি, টিকটিকি ও ব্যাঙ ভক্ষণ করে। অন্যান্য সাপ সাধারণত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে রাসেল ভাইপার সাপ ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা বছরের যে কোনো সময় প্রজনন করে।
একটি স্ত্রী সাপ গর্ভধারণ শেষে ২০ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে কোনো কোনো রাসেল ভাইপার সাপের ৭৫টি পর্যন্ত বাচ্চা দেওয়ার রেকর্ড আছে। এরা প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক হয়ে থাকে।
উপকূল জুড়ে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন লাভার (এএএলপি) অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া টিমের সদস্য বায়েজিদ মুন্সি জানান, আমরা ছবি দেখে বিভিন্ন স্থানে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি যে এটা রাসেলস ভাইপার। তবে এটা এখনো বেঁচে নেই কারন মৃত্যুর পরেও সাপ মুলত অনেকক্ষণ তার শরীর নড়াচড়া করে তাই স্থানীয়রা মনে করছে বেঁচে আছে। আমাদের টিমের সদস্যরা এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা মূলত বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করি। বর্তমানে সারাদেশে রাসেল ভাইপার নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সর্প বিশেষজ্ঞও না। বিষয়টি জানলাম। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।