মিরপুর ১০ ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 30, 2026, 16:48 PM
মিরপুর ১০ ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
‎
‎বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মিরপুর ১০ নম্বর হোপ মার্কেট এলাকার ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন। অভিযান চলাকালে হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের সময় বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় হকারদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হকাররা সংগঠিত হয়ে সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে পুলিশের একটি পিকআপ ঘটনাস্থলের দিকে গেলে সেটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে হকারদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
‎
‎ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, হোপ মার্কেটে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
‎
‎এদিকে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
‎
‎পরিদর্শন শেষে প্রশাসক বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
‎
‎হকারদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, তাঁদের নিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে সভা এবং মুকুল ফৌজ মাঠে জনসভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ফুটপাতে কেউ বসবেন না। তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছিল।
‎
‎তিনি বলেন, সেই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ২০৪টি রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে, যাতে হকাররা বৈধ ও অস্থায়ীভাবে নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা করতে পারেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাঁরা আবার ফুটপাতে বসতে শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা ওই জায়গাতেই বসবেন। কিন্তু সেখানে বসতে দেওয়া যাবে না। কারণ, এটি সাধারণ মানুষ, অফিসগামী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের চলাচলের পথ।
‎
‎ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, ফুটপাতে হাঁটতে না পেরে মানুষ মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।
‎
‎মিরপুর ১০-এর ঘটনায় তিনি বলেন, আজকের অপ্রীতিকর ঘটনার পর এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিহত করেছে এবং দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে গেছে। দেশকে উত্তপ্ত ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরির জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‎