অনলাইন ডেক্স,
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটের মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী জোটের দুই নেতা নাফতালি বেনেট ও ইয়ার গোলান।
রোববার (১ নভেম্বর) এ নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা ও দর-কষাকষি অব্যাহত থাকে। সোমবার (২ নভেম্বর) দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুবিরোধী চারটি জায়নবাদী দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘চেঞ্জ ব্লক’ এখন সরকার গঠনের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের আরব নেতৃত্বাধীন দল, অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দল কিংবা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে সমঝোতার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
জোটের অন্যতম দল ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনে তার দল ২১টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াচাদ পার্টি পেয়েছে ১২টি আসন। ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটস পার্টি পেয়েছে আটটি আসন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেনেট জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি আইজেনকটকে সমর্থন করছেন। গোলানও আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এদিকে জোটের চতুর্থ দল ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যানের সঙ্গে আইজেনকটের বৈঠক হয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। লিবারম্যানের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণায় এ ধরনের সরকারের সম্ভাবনা তুলে ধরায় বিরোধী জোটের রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী জোটের সামনে তাৎক্ষণিক একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগ দেওয়া। ওহানা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য। পার্লামেন্টের কার্যসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা আইজেনকটকে বার্তা দিয়েছেন, স্পিকার ওহানাকে সরানোর উদ্যোগ চলতে থাকলে লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তবে আইজেনকটের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং নেতানিয়াহুর সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় নেই।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক নিয়োগের নির্বাচন পুনরায় আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে বিরোধী জোট। এর আগে গত জুনে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল রাবেলোকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় দেশটির হাইকোর্ট পুনরায় ভোট আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। আরব দল ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও জোটের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।