ব্যবসার কাজে একসঙ্গে বের হয়েছিলেন, শেষ বিদায়ও হলো একসঙ্গে

Mofossal Barta
প্রকাশিত October 21, 2026, 13:40 PM
ব্যবসার কাজে একসঙ্গে বের হয়েছিলেন, শেষ বিদায়ও হলো একসঙ্গে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

ব্যবসার কাজে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন পাঁচজন। লক্ষ্য ছিল রাজশাহী থেকে কৃষিপণ্য কিনে ফিরবেন, আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠবেন চেনা বাজারে। কিন্তু কে জানত, সেই যাত্রাই হবে জীবনের শেষ যাত্রা! সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে একসঙ্গে বাড়ি ফেরা হলো ঠিকই, তবে জীবিত নয়—নিথর দেহে। শেষবারের মতো একসঙ্গেই জানাজা হলো তাদের। পরে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী।
‎মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটের ধুলট হাটা প্রাঙ্গণে তাদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানাতে সেখানে জড়ো হন স্বজন, সহকর্মী, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ। কান্না আর শোকের ভারে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। যাদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হতো, যাদের সঙ্গে চলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাসি-আড্ডা, তাদের নিথর দেহ সামনে রেখে অনেকেই অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি।
‎
‎
‎নিহত পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন—জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী।
‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা কাজিরহাট ও আশপাশের এলাকায় কৃষিপণ্যের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার প্রয়োজনে রাজশাহীর তাহেরপুর বাজার থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনতে মঙ্গলবার ভোরে রওনা হন তারা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। যাত্রাপথেই থেমে যায় পাঁচটি প্রাণ, মুহূর্তেই নিভে যায় পাঁচটি পরিবারের স্বপ্ন।
‎
‎
‎মঙ্গলবার ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া অংশে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওই পাঁচ ব্যবসায়ীসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জাজিরার তাদের নিজ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কাছে এ যেন ছিল অবিশ্বাস্য এক দুঃসংবাদ—যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, যাদের সুস্থভাবে ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, তারাই ফিরলেন নিথর দেহে।