বাউফলে শতাধিক মৃৎশিল্প কারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্হ

Mofossal Barta
প্রকাশিত October 20, 2026, 15:03 PM
বাউফলে শতাধিক মৃৎশিল্প কারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্হ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

সঞ্জয় দেবনাথ উপজেলা প্রতিনিধিঃ-
‎পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় কাগজিরপুল ও কনকদিয়া ইউনিয় সহ বিভিন্ন স্হানে কয়েক যুগ ধরে গড়ে ওঠা মৃৎশিল্প এখন ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প থেকে বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে।
‎এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে শতাধিক ছোট-বড় মৃৎশিল্প কারখানা। এ সকল কারখানায় পাঁচ শতাধিকের ও বেশি শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাশাপাশি মাটি সংগ্রহ, পণ্য তৈরি, পরিবহন ও বিপননসহ বিভিন্ন ধাপে জড়িত রয়েছেন আরও অনেক গুলো পরিবার ।
‎স্থানীয়ভাবে একসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে এ পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকলেও বর্তমানে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেও মৃৎশিল্প কে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
‎দিন দিন এ শিল্পে তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়ায় কারখানার পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকান ও শোরুম। বাউফলের কাগজিরপুল এলাকা এবং কারখানার আশপাশের শোরুমগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য ক্রেতাদের দিন দিন বেরে চলছে ।
‎স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মাটির পণ্য এখন শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
‎মাটি সংকটে শিল্পটি টিকিয়ে রাখার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
‎মৃৎশিল্পের প্রধান কাঁচামাল মাটি কিন্তু প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহ করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি মাটি সংগ্রহের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে একসময় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন এ পেশার ওপর নির্ভরশীল শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
‎শ্রমিকদের দাবি প্রশাসনের সহযোগিতায় বৈধ ও পরিবেশসম্মত উপায়ে প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কর্মসংস্থান ও সুরক্ষিত থাকবে।
‎একটি পণ্য তৈরিতে কয়েকটি
‎ধাপে মাটি সংগ্রহ করে তা প্রস্তুত, পণ্যের আকৃতি দেওয়া, শুকানো, পোড়ানো এবং বাজারজাতকরণ—বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তৈরি হয় একটি পূর্ণাঙ্গ মৃৎপণ্য।
‎প্রতিটি ধাপেই শ্রম ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়। ফলে কারখানার সরাসরি শ্রমিকদের বাইরেও মাটি সংগ্রহকারী, পরিবহনকর্মী, বিক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
‎স্থানীয়দের মতে, বাউফলের কাগজিরপুল ও কনকদিয়াএলাকার মৃৎশিল্প শুধু একটি পেশা নয় এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং বহু পরিবারের জীবিকার উৎস। তাই প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা, কারিগরদের সহায়তা দেওয়া এবং বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করে সাধারণ জনগন।
‎সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে কাগজিরপুল সহ বাউফলের বিভিন্ন স্হানের মৃৎশিল্প আরও সম্প্রসারিত হবে এবং ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে এবং কাজে উৎসাহ যোগাবে।