অনলাইন ডেক্স,
সাংবাদিক হয়রানি এবং জাতীয় সংগীত অবমাননার জন্য ক্ষমা চাইতে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এর ঠিকানায় এই নোটিশ দিয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান এন্ড এসোসিয়েটস এর স্বত্ত্বাধিকারী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।
নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে আদালত প্রাঙ্গনে সংঘটিত ঘটনার জন্য লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সকল প্রকার অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি প্রদান, অশ্লীল অভিনয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, অশ্লীল নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যাহা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোন উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যাহার কোন শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে শোকজ নোটিশ প্রদানপূর্বক চিত্রনায়িকা পরীমনি এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি বিগত ৫ নভেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্নসমর্পণ করে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন পান। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় পরীমনি এর সাথে সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তার নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়।সেই সময় শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেন। এমনকি তাঁর ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভেঙে ফেলেন। আদালত প্রাঙ্গণে ওই দিনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার এবং আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন, টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হয়েছেন। সেদিন সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের একজন বিচারপ্রার্থীও আহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির মাথা ফেটে রক্ত বের হয়েছে বলেও মিডিয়াতে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গনে প্রত্যেকের নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কাজ। তাই ব্যক্তিগত একাধিক নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের কোন সুযোগ আইনে কারো নাই।