অনলাইন ডেক্স,
কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের ডোবায় পড়ে গেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীবাহী একটি বাস। এ দুর্ঘটনায় এক মাদরাসা শিক্ষিকাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সোহানা আফরোজ (৪৫) এবং একই প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাদেরা আফরোজের স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল (৫৬)।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই মাদরাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীকে নিয়ে দুটি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। তাদের বাসটি বহরের সামনে ছিল। পেছনের বাসটি সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের গভীর ডোবায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে সামনের বাসের যাত্রীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আবদুর রহিম জানান, দুর্ঘটনার সময় নিহত দুজন বাসের সামনের আসনে বসা ছিলেন। বাসটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় শ্বাসরোধে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালক মোহাম্মদ রাশেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। নিহতদের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শিক্ষা সফরের আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হওয়ায় নিহতদের পরিবার, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।