নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি, বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজারে

Mofossal Barta
প্রকাশিত October 10, 2026, 15:30 PM
নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি, বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজারে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

সরকারিভাবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করেও বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরবরাহ সংকটের মধ্যে নতুন করে দাম নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত মূল্যে রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
‎
‎রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দাম থাকলেও সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতি এবং অপারেটরদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কেনার কারণে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের।
‎
‎আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার
‎
‎রাজধানীর হাতিরপুলের এক গ্রাহক জানান, গত ২ অক্টোবর ৫০ টাকা ডেলিভারি চার্জসহ ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে তাঁর খরচ হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ ওই সময় সিলিন্ডারটির সরকার নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
‎
‎বেশি দামে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে ওই বিক্রেতা জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তাঁরও খরচ বেড়েছে। সর্বশেষ কেনা সিলিন্ডারে তাঁর খরচ পড়েছে ২ হাজার টাকা। সেটি তিনি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
‎
‎রাজধানীর মিরপুরেও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। মুন্সীগঞ্জের বিক্রেতা জাকির হোসেন জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর গ্যাস পাননি। নতুন করে সরবরাহ কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে ডিলারও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি। তবে নতুন সিলিন্ডার পেলে তাঁর দাম পড়বে ২ হাজার ২০০ টাকা।
‎
‎সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে বাড়তি দাম
‎
‎বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, অপারেটর কোম্পানির কাছ থেকে একজন ডিলার বা পরিবেশকের ১২ কেজির সিলিন্ডার কেনার কথা ১ হাজার ৭৪২ টাকায়। ডিলারের মুনাফা ৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার মুনাফা ৪০ টাকা ধরে গ্রাহক পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
‎
‎কিন্তু বাস্তবে ডিলার পর্যায়েই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুন্সীগঞ্জের গ্রিন এলপিজির ডিলার মোজাম্মেল জানান, ১৮ সেপ্টেম্বরের পর তাঁর কাছে আর গ্যাস সরবরাহ করা হয়নি। নতুন দাম নির্ধারণের পরও অপারেটর তাঁর কাছে প্রতি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৯০ টাকা চেয়েছে। অথচ নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৭৪২ টাকা।
‎
‎মোজাম্মেলের দাবি, সরবরাহ সংকটের কারণে সেপ্টেম্বর মাসে ২০ হাজার সিলিন্ডার বিক্রির বিপরীতে তিনি সর্বোচ্চ ২ হাজার সিলিন্ডার পেয়েছেন। গ্যাসবাহী গাড়ি কয়েক দিন ধরে মোংলায় আটকে থাকায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। এসব খরচ সামলাতে তাঁকে প্রতি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রির দাবি জানাতে হচ্ছে।
‎
‎অপারেটর পর্যায়ে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিইআরসিকে চিঠি দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। সমিতির তথ্য অনুযায়ী, নতুন মূল্য নির্ধারণের পর বিভিন্ন অপারেটর ডিলারদের প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৪০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কয়েকটি কোম্পানি নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামেও সিলিন্ডার দিচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, অপারেটরদের বাড়তি দাম এবং পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে ডিলাররা নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করতে পারছেন না। এভাবে বিক্রি করতে গেলে অনেক পরিবেশক পুঁজি হারাবেন এবং ঋণ পরিশোধেও সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
‎
‎আমদানি প্রায় একই, তবু কেন সংকট?
‎
‎বাংলাদেশে এলপিজির ৯৮ শতাংশের বেশি আমদানি হয় বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে। বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩২ থেকে ৩৩টি কোম্পানির লাইসেন্স থাকলেও এলপিজি আমদানি করছে ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি।
‎
‎এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ দুই মাসে আমদানির পরিমাণ প্রায় একই থাকলেও বাজারে সরবরাহ সংকট কেন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
‎
‎আমদানিকারক ও অপারেটরদের কেউ কেউ বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, পরিবহন ব্যয় ও প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় এলপিজির খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার যেসব কোম্পানি নিজেরা আমদানি না করে অন্য অপারেটরদের কাছ থেকে গ্যাস কিনে বোতলজাত করে, তারাও পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে।
‎
‎গ্রিন এলপিজির জেনারেল ম্যানেজার আহসান হাবিব হিরো বিবিসি বাংলাকে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান গত দুই বছর ধরে সরাসরি এলপিজি আমদানি করছে না। অন্য অপারেটরদের কাছ থেকে গ্যাস কিনে বোতলজাত করে সরবরাহ করে তারা। সেপ্টেম্বরে ২ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৫০ টন গ্যাস পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
‎
‎অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের দাবি, আমদানির কোটা এবং লাইসেন্স পেতে নানা ধরনের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা সরবরাহ ব্যবস্থাকে জটিল করেছে। দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তির সুযোগ সীমিত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গ্যাস সংগ্রহের খরচও বেড়েছে।
‎
‎তবে আমদানি হওয়া গ্যাসের পরিমাণের সঙ্গে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির সম্পর্ক কী, কিংবা কোথাও মজুত করে বাড়তি মুনাফা করা হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। কয়ে