মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করায় ইরানে তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

Mofossal Barta
প্রকাশিত October 15, 2026, 10:08 AM
মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করায় ইরানে তরুণীর মৃত্যুদণ্ড
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে কটূক্তি করায় ইরানে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।নাজমেহ আমিনি নামের ওই তরুণীর এ দণ্ডাদেশের খবর প্রকাশের পর দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড ও ফাঁসি কার্যকরের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
‎
‎যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান (এইচআরএআই) আমিনির পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘সাব ওল-নবি’ বা মহানবীকে অবমাননার অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইরানের সাইবার পুলিশ (ফাতা) অনলাইনে নজরদারির মাধ্যমে তাঁকে শনাক্ত করার পর গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে। তবে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ঠিক কী লেখা ছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।
‎
‎হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আমিনিকে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে রাখা হয়েছে। পৃথক দুটি মামলায় একটি বিপ্লবী আদালত ও একটি ফৌজদারি আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন।
‎
‎দ্বিতীয় মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগসহ বিভিন্ন ধারায় তাঁকে ১২ বছর ছয় মাস এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
‎
‎জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনী আমিনিকে গ্রেপ্তার করে। প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মাধ্যমে ওই বিক্ষোভ দমন করা হয়। এতে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএআইয়ের সংবাদ সংস্থা হারানা জানিয়েছে, ওই সময় ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
‎
‎গত মাসে প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে আমিনিকে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাতে শোনা যায়। রেকর্ডিংটি তাঁর বলে দাবি করা হয়েছে। এতে জাতিসংঘ, আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে তাঁর মামলা তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
‎
‎আমিনি বলেন, ‘আমি আজ নিজেকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই না। আমি শুধু একটি জিনিস চাই—আপনারা আমার কণ্ঠস্বর হোন।’
‎
‎তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন নিরপরাধ তরুণী, যার অনেক আশা ও স্বপ্ন রয়েছে। আমার মা-বাবা আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। একটি পরিবার প্রতিরাতে আমাকে হারানোর ভয়ে রাতকে ভোর করে তোলে।’
‎
‎মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ভিন্নমত দমন এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ ক্রমবর্ধমান হারে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করছে। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) জানিয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ইরানে ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
‎