ধনী হওয়ার কৌশল শেখানো সেই লেখকের ঋণ ১.২ বিলিয়ন ডলার

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 4, 2026, 15:06 PM
ধনী হওয়ার কৌশল শেখানো সেই লেখকের ঋণ ১.২ বিলিয়ন ডলার
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি বিপুল ঋণের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। আর্থিক সাফল্য ও বিনিয়োগের কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই লেখকের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ জড়িত বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী কিয়োসাকি অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই তার বিপুল ঋণের কথা প্রকাশ্যে বলে আসছেন। তার ভাষ্য, আয় তৈরি করে এমন সম্পদ কেনার জন্য ঋণ নেওয়া ধনী ব্যক্তিদের বহুল ব্যবহৃত একটি কৌশল।

‎সম্প্রতি একটি পডকাস্টে কিয়োসাকি বলেন, তিনি প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে রয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তিনি যেভাবে বিনিয়োগ করেন, অন্যদের সেভাবে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।

‎তবে কিয়োসাকির সাবেক স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকি জানিয়েছেন, ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। তার দাবি, এই পুরো অর্থ রবার্ট কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণ নয়। কিমের ভাষ্য অনুযায়ী, অংশীদারদের সঙ্গে তাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০টি অ্যাপার্টমেন্ট ইউনিট রয়েছে। এসব সম্পত্তির বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফলে হিসাবের দিক থেকে মোট ঋণের পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন ডলার হলেও এর সামান্য অংশই কিয়োসাকির ব্যক্তিগত দায়।

‎প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়োসাকির বিনিয়োগ কৌশল থেকেই এই বিপুল ঋণের পরিমাণ তৈরি হয়েছে। কোনো সম্পত্তির মূল্য বাড়লে সেই বর্ধিত মূল্যের বিপরীতে তিনি আরও ঋণ নেন। সম্পত্তি বিক্রি না করে এর বিপরীতে ঋণ নেওয়ায় এই অর্থ সাধারণত করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হয় না।

‎এ ছাড়া কিয়োসাকি তার বিভিন্ন বিনিয়োগ পৃথক পৃথক ‘লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি’ বা এলএলসির আওতায় রেখেছেন। ফলে কোনো একটি বিনিয়োগে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব অন্য সম্পদের ওপর সীমিত রাখা সম্ভব হয়। নিজের এই পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কিয়োসাকি বলেছেন, বিনিয়োগে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলেও আইনজীবীদের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। তার মতে, ধনী বিনিয়োগকারীরা এভাবেই এক ধরনের ‘ফায়ারওয়াল’ তৈরি করে সম্পদ সুরক্ষিত রাখেন।

‎প্রতিবেদনে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, কিয়োসাকি বছরে প্রায় ৩০ লাখ ডলার আয় করেন। এই হিসাব সঠিক হলে ১.২ বিলিয়ন ডলারের মোট ঋণের মধ্যে তার ব্যক্তিগত দায় আনুমানিক ৩ থেকে ৬ কোটি ডলারের মতো হতে পারে।

‎রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী ডেভিড এ. পেরেজ কিয়োসাকির কৌশলকে কার্যকর একটি পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সম্পত্তির বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এতে বন্ধকী ঋণের কিস্তি ও সুদের ব্যয় বাড়তে পারে এবং নগদ অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে বিনিয়োগ বিশ্লেষক জন পুল সতর্ক করে বলেছেন, ঋণ ভালো বা খারাপ—দুই ধরনেরই হতে পারে। তবে ১.২ বিলিয়ন ডলারের মতো বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীকে নিজের কৌশল ও ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।

‎তার মতে, সম্পত্তির মূল্য যখন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে, তখন ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগের কৌশল কার্যকর হতে পারে। কিন্তু সম্পদের মূল্য বাড়ার প্রবণতা থেমে গেলে একই কৌশল বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

‎‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইকে কেন্দ্র করে রবার্ট কিয়োসাকি বিশাল আর্থিক শিক্ষা ও বিনিয়োগভিত্তিক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। ১৯৯৭ সালে প্রথম প্রকাশিত বইটি বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে কিয়োসাকি নিজের বাবাকে ‘পুওর ড্যাড’ এবং শৈশবের বন্ধুর বাবাকে ‘রিচ ড্যাড’ হিসেবে উপস্থাপন করে অর্থ, সম্পদ ও বিনিয়োগ সম্পর্কে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।