আজ জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 8, 2026, 12:03 PM
আজ জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামীকাল ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এটি বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

‎বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জলবায়ু সংকট, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার এই কঠিন সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বোচ্চ পদে বসছেন এক বাংলাদেশি কূটনীতিক। তার এই মেয়াদকাল হবে এক বছরের।

‎মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

‎তার এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ ফিরে পেল বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

‎গত ২ জুন গোপন ব্যালটে ড. খলিলুর রহমান এই পদে নির্বাচিত হন। তিনি পান ৯৯টি ভোট। অন্যদিকে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পেয়েছিলেন ৯১টি ভোট।

‎জাতিসংঘের আঞ্চলিক পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা অনুযায়ী এবারের সভাপতি পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

‎প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় চার মাস পর বাংলাদেশ এই অনন্য গৌরব অর্জন করে।

‎প্রধানমন্ত্রী নিজেও আগামীকাল সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন।

‎‘অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত’

‎পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ (সোমবার) খলিলুর রহমানের সভাপতি নির্বাচনকে একটি ‘অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত’ এবং দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

‎তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা নতুন করে বৃদ্ধির প্রতিফলন।

‎বিকেলে বাসসকে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া দেশের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য।’

‎তিনি জানান, দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরে আসায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা তৈরি হয়েছে। এটিই এ সাফল্যের অন্যতম কারণ।

‎পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই সাফল্যের মূল কারণ হলো বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরে আসাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দিয়েছে।’

‎তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খলিলুরকে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের বিষয়ে বিশ্ববাসীর কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা গেছে।

‎শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববাসী দেখেছে যে জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়েছে। আমি মনে করি, সেই আস্থার প্রতিফলনই দেখা গেছে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনের ফলাফলে।’