নতুন ২ কয়লাভিত্তিক প্রকল্প অনুমোদন, মিলবে ২৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 21, 2026, 08:48 AM
নতুন ২ কয়লাভিত্তিক প্রকল্প অনুমোদন, মিলবে ২৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির চাপের মধ্যে আবারও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীর পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্প দুটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুটি কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হতে পারে। এর মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি নির্মাণে প্রায় ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) এরই মধ্যে প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, মাতারবাড়ীতে আগে থেকেই বিদ্যুৎ সঞ্চালনের অবকাঠামো রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্র নির্মাণের জন্য স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছে। বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া না গেলে সরকারি অর্থায়নেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দ্বিতীয় পর্যায়ের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির অর্থায়নে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের তুলনামূলক স্থিতিশীল উৎস হিসেবে কয়লাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ৬ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট। নতুন দুটি কেন্দ্র চালু হলে এই সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াটে দাঁড়াবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর পরিবেশগত ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।