কলাপাড়ায় জমি বিরোধে চাচা-চাচিকে মারধর, কাটা হলো শতাধিক গাছ

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 25, 2026, 14:26 PM
কলাপাড়ায় জমি বিরোধে চাচা-চাচিকে মারধর, কাটা হলো শতাধিক গাছ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

আমার ছেলে সন্তান নাই দেইখা, আমি কোন বিচার পাইনা। আমার স্বামী নাকি কোন জায়গা-জমি পাইবে না। আমরা বড় অসহায়। দেশের মানুষের কাছে বিচার চাই।” অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নীলগঞ্জ গ্রামের ভুক্তভোগী মো. মিজান হাওলাদারের স্ত্রী হেনা বেগম।
‎
‎আপন ভাতিজা শামীম হাওলাদার, দুই ভাই ছিদ্দিক হাওলাদার ও মনির হাওলাদারের বিরুদ্ধে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন মিজান হাওলাদার (৫০) ও তার স্ত্রী হেনা বেগম (৪৮)। তাদের অভিযোগ, বিভিন্নভাবে হয়রানির পাশাপাশি মারধর করা হয়েছে এবং বাড়ির শতাধিক ফলন্ত গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে।
‎
‎এ ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে কলাপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী দম্পতি। বিচারের আশায় বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা।
‎
‎ভুক্তভোগী মিজান হাওলাদার জানান, তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নীলগঞ্জ গ্রামের মৃত মফেজ হাওলাদারের ছেলে। তার আপন ভাই ছিদ্দিক হাওলাদার ও তার ছেলে শামীম হাওলাদার এবং আরেক ভাই মনির হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
‎
‎মিজানের অভিযোগ, তার কোনো ছেলে-মেয়ে না থাকায় অভিযুক্তরা তাকে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ দিতে গড়িমসি করছেন। জমিজমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা মানছেন না।
‎
‎সর্বশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভাতিজা শামীম হাওলাদার তার বাবা ছিদ্দিক হাওলাদার এবং অপর চাচা মনির হাওলাদারের নির্দেশে মিজানের ভোগদখলীয় জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটতে আসেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎এ সময় গাছ কাটতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তারা একত্র হয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মিজান হাওলাদার ও তার স্ত্রী হেনা বেগমের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সময় তাদের বাড়ির শতাধিক ফলন্ত গাছ কেটে ফেলা হয়।
‎
‎পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী দম্পতিকে উদ্ধার করে। মারধর ও গাছ কাটার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয় একটি মহল মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি কালক্ষেপণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে ছিদ্দিক হাওলাদার বলেন, তার ভাই মিজান ও ছেলে শামীম হাওলাদারের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছে। তিনি ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না, খবর পেয়ে পরে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।