স্বামীকে বাঁচাতে ৫০ লাখ টাকা দিলেন স্ত্রী, অতঃপর

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 24, 2026, 10:49 AM
স্বামীকে বাঁচাতে ৫০ লাখ টাকা দিলেন স্ত্রী, অতঃপর
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

লিবিয়ায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও নির্যাতন করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

‎তিন দিনের রিমান্ড শেষে  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে পাঠানো হলে একজন দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪) এবং মর্জিনা বেগম (৩৯)। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি দল তাদের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, আসামিদের রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করা হলে মর্জিনা বেগম ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

‎মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী (৫৪) জীবিকার তাগিদে লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন। গত বছরের ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানী ত্রিপোলির আনজারা এলাকায় নিজ বাসার সামনে থেকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে। চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

‎পরবর্তী সময়ে ইদ্রিস আলীকে মারধর করে সেই নির্যাতনের চিত্র ইমো ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কাছে পাঠানো হয়। স্বামীকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে প্রথম দফায় ২০ লাখ টাকা পাঠান তাঁর স্ত্রী। তবে মুক্তিপণ পেয়েও ক্ষান্ত হয়নি চক্রটি; ফের ৩০ লাখ টাকা দাবি করে ইদ্রিস আলীকে রড দিয়ে পিটিয়ে ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে দুটি ব্যাংক হিসাব ও বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে আরও ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান ভুক্তভোগীর স্ত্রী। মোট ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর দীর্ঘ দেড় মাস আটকে রেখে তাঁকে ত্রিপোলির একটি সড়কে ফেলে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা।

‎পরবর্তীতে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ২০২৫ সালের ২২ জুলাই দেশে ফেরেন ইদ্রিস আলী। সুস্থ হয়ে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার তদন্তভার পায় পিবিআই।

‎পিবিআই জানায়, প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সন্ধান মেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে চক্রটি সেখানকার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। এ ঘটনার পেছনে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।