• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলা–বরিশাল সেতু প্রকল্পে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগ উদ্যোগ

Mofossal Barta
প্রকাশিত আগস্ট ২, ২০২৬, ১৩:৩৮ অপরাহ্ণ
ভোলা–বরিশাল সেতু প্রকল্পে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগ উদ্যোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

‎সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায় ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

‎এই দুই সেতু প্রকল্পে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা (৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার)।

‎আশা করা হচ্ছে, এই সেতু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক সংযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে, অর্থনীতিতেও হবে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার। ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতু দুটি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

‎তবে পিপিপি পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।

‎সম্প্রতি রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় জাপানি কোম্পানিটি এই দুটি সেতু নির্মাণে আগ্রহরে কথা জানায় বলে বাংলাদেশ সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

‎সভায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু ও বরিশাল-ভোলা সেতুকে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় নতুন প্রকল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। এটি পিপিপির মাধ্যমে বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে উভয় সরকারের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

‎ভোলা-বরিশাল সেতু : এ দুটির মধ্যে বড় প্রকল্প ভোলা-বরিশাল সেতু। এর নির্মাণে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত ১০.৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেতু। এটি দ্বীপজেলা ভোলা ও মূল ভূখণ্ড বরিশালের মধ্যে স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। ২০২৪ সালের এক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সেতু বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আগামী ৩০ বছরে সেতুটি দেশের জিডিপিতে ০.৮৬ শতাংশ অবদান রাখবে। এছাড়া ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কাজও এই সেতুর মাধ্যমে সহজ হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

‎শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু : দ্বিতীয় প্রকল্পটি শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু। মেঘনা নদীর ওপর নির্মিতব্য ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অবকাঠামোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলাকে সরাসরি যুক্ত করবে। এর ফলে বর্তমান ফেরি ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরি হবে। আশা করা হচ্ছে, সেতুটি চালু হলে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে ঢাকার ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনের চাপও কমবে। চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট ও শরীয়তপুরের সখিপুরের মধ্যে এই সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে এই প্রকল্পের জন্য একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে। গত বছর জরিপ প্রতিবেদন সম্পন্ন হয়েছে।