গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বিশেষ প্রতিনিধি:
অভাব-অনটন যেন মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এ লক্ষ্যেই টাঙ্গাইলে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), টাঙ্গাইলের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে মেধাবৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব শহীদুল্লাহ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. আনিছুর রহমান।
এ সময় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), টাঙ্গাইলের উপতত্ত্বাবধায়ক জনাব তানিয়া আক্তার, বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), টাঙ্গাইলের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত তিনজন মেধাবী নিবাসীকে এককালীন ১২ হাজার টাকা করে মোট ৩৬ হাজার টাকা এবং স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত পাঁচজন নিবাসীকে এককালীন ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মেধাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়।
চেক হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ। তাঁদের চোখে তখন ছিল উচ্চশিক্ষা শেষ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। আর্থিক সহায়তার এই উদ্যোগ তাদের সেই স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. আনিছুর রহমান বলেন, “আজকের এই মেধাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি তাদের স্বপ্নপূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। প্রতিকূলতা কখনো মেধা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসকে থামিয়ে দিতে পারে না। তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করবে এবং নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, সরকারি শিশু পরিবারের শিক্ষার্থীরা সমাজ ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ গঠনে রাষ্ট্র ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আজ যারা সহায়তা পাচ্ছে, ভবিষ্যতে তারাই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখবে। তোমাদের সাফল্যই হবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অর্জন।
টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব শহীদুল্লাহ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, তাদের স্বপ্ন দেখানো এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে পাশে থাকা। সরকারি শিশু পরিবারের এসব সন্তান অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে বিষয়ে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই সামান্য সহযোগিতা হয়তো তাদের জীবনের বড় কোনো স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। নিজেদের যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে তারাই সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।