দুর্যোগে সহায়তার জন্য ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রকে নেপালের কৃতজ্ঞতা

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 3, 2026, 09:36 AM
দুর্যোগে সহায়তার জন্য ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রকে নেপালের কৃতজ্ঞতা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (বালেন)। তিনি বলেছেন, সংকটের সময়ে পাওয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‎সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বালেন শাহ বলেন, এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অন্তত ৩ হাজার ৯১৬ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। দুর্যোগের পরদিনই মন্ত্রীদের একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যায়। এ সময় বিভিন্ন দেশ ও ব্যাংক থেকে সহায়তা পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আকস্মিক বন্যার পর দ্রুত সাড়া দেওয়ায় ভারত ও চীনের বিশেষভাবে প্রশংসা করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ দুটি জরুরি সহায়তা, কারিগরি দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে। বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকা এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক, সেতু, বসতি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তার আশ্বাস দেন। দুর্যোগের পর ভারত বিশেষায়িত অনুসন্ধান ও উদ্ধার সহায়তাও দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ভারতীয় দলগুলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল এলাকায় উদ্ধারকাজ এবং বিপুলসংখ্যক হতাহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ফরেনসিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে। দুর্যোগের পর নেপালে শারীরিকভাবে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া প্রথম দেশ ছিল ভারত।

‎অন্যদিকে, চীনও সীমান্তের নিজ অংশে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত জি২১৬ মহাসড়কটি পুনরায় চালু করেছে বেইজিং। এতে আগে দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে যেসব এলাকায় পৌঁছাতে হতো, সেখানে এখন ভারী যন্ত্রপাতি, উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ সরঞ্জাম নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

‎এদিকে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রচলিত মানবিক সহায়তার পরিবর্তে বড় ধরনের নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ‘জলবায়ু ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান খুবই সামান্য হলেও হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে।