মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে যা বললেন আর্জেন্টিনা ফুটবল সভাপতি

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 16, 2026, 12:58 PM
মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে যা বললেন আর্জেন্টিনা ফুটবল সভাপতি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে মাঠে নামবেন তিনি। আর এই ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ উপস্থিতি।

‎গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন মেসি। এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন তিনি।

‎আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে মেসিকে যথাযথ বিদায় জানানোর সুযোগ করে দিতেই এই প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে।

‎ভিডিও বার্তায় তাপিয়া বলেন, ‘আর্জেন্টিনার সব সমর্থকের উদ্দেশে বলতে চাই, জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আমাদের জাতীয় দলের প্রতীক ও অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর। ৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনার মাটিতে তিনি যে বিদায় প্রাপ্য, সেটিই যেন পান।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘লিওনেল আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কাতার বিশ্বকাপের ২০২২ সালের শিরোপাজয়ী দলের যেসব খেলোয়াড় তার সঙ্গে খেলেছেন, তাদেরও আমন্ত্রণ জানাব। তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই স্মরণীয় ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন। সব আর্জেন্টাইন ও জাতীয় দলের সমর্থকদের আমরা বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের ‘শেষ ট্যাঙ্গো’ দেখতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

‎আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার২০০৫ সালের আগস্টে মাত্র ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় মেসির। এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যান, যেখানে তিনি হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোল করা ফুটবলার।

‎আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে তার ২০৮তম। জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ১২৫।

‎আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জনের তালিকায় রয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা।

‎এ ছাড়া ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনাকে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে জেতেন সোনার পদকও।

‎আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান তিনি। টুর্নামেন্টে করেন সাত গোল। একই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করা প্রথম খেলোয়াড়ও হন মেসি। পাশাপাশি জেতেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল।

‎বিশ্বকাপেও বেশ কয়েকটি রেকর্ড রয়েছে মেসির। পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তিনিও ছয়টি বিশ্বকাপের আসরে খেলেছেন। বিশ্বকাপে তার ৩৪টি ম্যাচে অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তার গোলসংখ্যা ২১, যা সর্বকালের তালিকায় দ্বিতীয়। ২২ গোল নিয়ে তার ওপরে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।

‎কোপা আমেরিকাতেও মেসির রয়েছে একাধিক রেকর্ড। তিনি খেলেছেন সাতটি আসরে এবং ৩৯টি ম্যাচ খেলে এই প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন।

‎২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর অবশেষে ২০২১ সালে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জেতেন মেসি। মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান তিনি। এরপর ২০২৪ সালেও আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখতে সহায়তা করেন।

‎২০২১ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপাটি মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার সিনিয়র পুরুষ দলের দীর্ঘ ২৮ বছরের বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপার অপেক্ষার অবসান ঘটে। এরপর ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জেতার পর একই বছর কাতার বিশ্বকাপও ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা।

‎আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ বড় টুর্নামেন্ট ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। তবে টুর্নামেন্টে মেসি করেন আট গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করান চারটি গোল।