‎৬ মাসে রেলের আয় বেড়েছে, সুখবর দিলেন মন্ত্রী নিজেই

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 10, 2026, 11:03 AM
‎৬ মাসে রেলের আয় বেড়েছে, সুখবর দিলেন মন্ত্রী নিজেই
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো এবং আয় বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বেড়েছে। গত ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থার আয় ২২৫ কোটি টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমান (কক্সবাজার-৩)-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
‎মন্ত্রী বলেন, ‘গত ছয় মাসে বাংলাদেশ রেলওয়ে গত বছরের তুলনায় ২২৫ কোটি টাকা বেশি আয় করেছে। ফলে লোকসানও ২২৫ কোটি টাকা কমেছে।’ তিনি জানান, চলতি বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেলওয়ের আর্থিক বোঝা কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে।


‎রেলপথমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের অনেক রেললাইন ১৯৩০, ১৯৪০ ও ১৯৭০-এর দশকে স্থাপিত হয়েছে। পুরোনো মিটারগেজ রেললাইনগুলোর কারণে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে কিছু রেলওয়ে সরঞ্জামের যন্ত্রাংশ এখন সহজে পাওয়া যায় না। এসব কারণে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

‎এদিকে লাভজনক কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই রুটে ট্রেন চলাচলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে বর্তমানে ইঞ্জিন ও কোচের সংকটের কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার-ঢাকা রেলসেবার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ইঞ্জিন ও কোচের সংকটের কারণে বর্তমানে মাত্র দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করছে।’

‎মন্ত্রী জানান, ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের জন্য সরকার ইতোমধ্যে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এসব ইঞ্জিন ও কোচ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎কক্সবাজার রুটে বেসরকারি খাতে ট্রেন পরিচালনার জন্য সরকার বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা ও বিবেচনা করছি। আশা করি, বেসরকারি খাতের উদ্যোগের মাধ্যমেও অল্প সময়ের মধ্যে এই লাভজনক রুটে ট্রেনসেবা নিশ্চিত করতে পারব।’

‎অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মারজিয়া বেগম (সংরক্ষিত নারী আসন-৩৮)-কে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে জাতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা ১৫টি জেলার মধ্যে ১০টি জেলায় রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

‎তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৯টি জেলায় রেল যোগাযোগ রয়েছে। অর্থাৎ ১৫টি জেলায় রেল যোগাযোগ নেই। এই ১৫ জেলার মধ্যে ১০টিতে নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর ওই ১০ জেলার একটি।’

‎মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ১০টি জেলার মধ্যে মানিকগঞ্জসহ পাঁচটি জেলায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে নির্ধারিত ১০টি জেলার মধ্যে লক্ষ্মীপুর অগ্রাধিকার পাবে।’