মাদক কারবারিদের সংশোধনে তাবলিগে পাঠালেন ওসি

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 23, 2026, 11:45 AM
মাদক কারবারিদের সংশোধনে তাবলিগে পাঠালেন ওসি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজেও। তাই মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নৈতিকভাবে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়াও জরুরি—এমন চিন্তা থেকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম।


‎মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহজালাল ও হেলাল নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের সংশোধনের জন্য প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিন্ন উদ্যোগ নেন ওসি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই দুই ব্যক্তিকে থানায় ডেকে এনে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।

‎স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহজালাল ও হেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখিও হয়েছেন তারা। তবে জামিনে বের হওয়ার পর পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ছিল।


‎এ অবস্থায় শুধু মামলা ও শাস্তির মাধ্যমে তাদের পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না—এমন বিবেচনায় নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে দুজনকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।

‎তিন দিনের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে তারা কচুয়া থানায় ফিরে ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় জানান তারা।


‎ওসি জানান, ওই দুই ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে অংশ নেওয়া এবং মাদক ব্যবসা ও সেবন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

‎নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, বারবার মামলা ও কারাগারে পাঠানোর পরও তাদের কর্মকাণ্ডে স্থায়ী পরিবর্তন আসছিল না। তাই আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের মানসিক ও নৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তারা অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এসেছেন। তাঁর মতে, শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, ভুল পথে যাওয়া মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও গুরুত্বপূর্ণ।


‎ওসির এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অনেকে। তাদের মতে, মাদকবিরোধী আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া গেলে দীর্ঘমেয়াদে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।