২ কোটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী পাবেন স্মার্ট কার্ড

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 23, 2026, 16:56 PM
২ কোটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী পাবেন স্মার্ট কার্ড
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

‎দেশের প্রায় দুই কোটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পেতে যাচ্ছেন ইউনিফায়েড এডু আইডি ও স্মার্ট কার্ড। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মেগাপ্রকল্পের আওতায় এই ডিজিটাল পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ছয় হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাথাপিছু খরচ পড়বে তিন হাজার টাকা।

‎বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রকল্পের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্মার্ট লার্নিং পরিবেশ স্থাপন’।

‎সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

‎২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নতুন প্রকল্প হিসেবে এটি অন্তর্ভুক্তির জন্য সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে মাউশি। চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন হলে সারা দেশের সিটি করপোরেশন, জেলা শহর ও উপজেলা এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা এই সুবিধার আওতায় আসবে। মূল প্রকল্প শুরুর আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পৃথক আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। এর মধ্যে কনসালট্যান্সি সেবায় ব্যয় হবে ৪৩৭ দশমিক ৯২ লাখ টাকা, ওয়ার্কশপ আয়োজনে ৩০ লাখ টাকা, কম্পিউটার সরঞ্জামাদিতে ৮ দশমিক ৬০ লাখ টাকা এবং সম্মানি খাতে ৬ লাখ টাকা।
‎সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল প্রকল্পের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও চূড়ান্ত বাজেট রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

‎দেশব্যাপী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। নির্বিঘ্নে এটি পরিচালনার জন্য গড়ে তোলা হবে কেন্দ্রীয় সার্ভার ও ডেটাবেইস। এডু আইডি, স্মার্ট কার্ড, সার্ভার ও ডেটাবেইস মিলিয়ে এই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা।

‎প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাদান নিশ্চিতে ৭ লাখ শিক্ষককে বিনা মূল্যে আধুনিক ট্যাবলেট কম্পিউটার দেওয়া হবে। এই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি ট্যাবের দাম পড়বে ৪০ হাজার টাকা।

‎শুধু ডিভাইস নয়, শিক্ষকদের আধুনিক ই-লার্নিং পদ্ধতিতে দক্ষ করতে দেওয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ। ডিজিটাল পেডাগজি ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ ক্লাস পরিচালনার এই প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া ও প্রশিক্ষণ মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

‎১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক লাখ শ্রেণিকক্ষে বসবে ইন্টারঅ্যাকটিভ এডুকেশন প্যানেল। শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়নের এই কাজে খরচ হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে সব প্রতিষ্ঠানে বসানো হবে ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ, ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক ও ফ্রি ওয়াই-ফাই। শিক্ষার মান তদারকিতে গড়ে তোলা হবে কেন্দ্রীয় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। থাকবে জাতীয় কনটেন্ট রিপোজিটরি এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও ডাটা অ্যানালিটিকস সিস্টেম।