কেউ হয়রানির চেষ্টা করলে, তাকে নগ্ন করে রাস্তায় দাঁড় করাব: ঋতাভরী

Mofossal Barta
প্রকাশিত September 1, 2026, 09:03 AM
কেউ হয়রানির চেষ্টা করলে, তাকে নগ্ন করে রাস্তায় দাঁড় করাব: ঋতাভরী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স,

পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। হ্যাসট্যাগ মি-টু আন্দোলনের সময় যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সরব হওয়া শিল্পীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। সেই সঙ্গে অন্য নারীদের মুখ খোলার আহ্বান জানার। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পোস্টে ট্যাগ করেছিলেন অভিনেত্রী।

‎সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে কেন এত বছর পর যৌন হয়রানি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন এবং তার করা অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী—তা জানিয়েছেন ঋতাভরী।

‎অভিনেত্রী বলেন, ‘আজ আমার জীবনে এমন একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। কেউ যদি এখন আমার গায়ে হাত দেয় বা যৌন হয়রানির চেষ্টা করে, তবে তাদের মাঝ রাস্তায় নগ্ন করে দাঁড় করাব। আর জানিয়ে রাখি, পূর্ব ভারতের একজন অভিনেত্রী হিসেবে সমাজিক মাধ্যমে বেশি ফলোয়ার্স কিন্তু আমারই রয়েছে।’

‎এদিন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল বলে জানান ঋতাভরী। তখন তিনি ছিলেন একেবারেই নতুন এবং নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন।

‎তিনি বলেন, ‘আমি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু করি, তখন বিষয়টি এমন ছিল না। আমি খুবই ছোট ছিলাম, নিজের পথ খুঁজছিলাম। এসব ঘটনা যখন ঘটেছিল, তখন আমি ভীষণ ভয় পেতাম।’

‎ঋতাভরী জানান, বছরের পর বছর ধরে তিনি হয়রানির সঙ্গে সম্পর্কিত আপত্তিকর বার্তাগুলো পুষে রেখেছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমকে তিনি কারও বিরুদ্ধে ‘বিচারের জায়গা’ হিসেবে ব্যবহার করতে চান না।

‎তার ভাষায়, ‘আমি এত বছর ধরে সেই আপত্তিকর বার্তাগুলো সংরক্ষণ করেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কারও বিচার করার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। বরং আমি একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোতে চাই। নিজের করা আবেদনের বর্তমান অবস্থা নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তার দাবি, বর্তমান সরকারের কাছেও তিনি একই ধরনের আবেদন করেছেন, তবে এবার সেটি আরও আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছে। ঋতাভরী বলেন, ‘আমি বর্তমান সরকারের কাছেও একই ধরনের আবেদন করেছি। এবার সেটি আরও আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো একান্ত বৈঠক হয়নি। বিষয়টি কোথায় যায়, সেটি দেখছি। আমি সবাইকে আপডেট জানাব।’ কেরালার হেমা কমিটির আদলে বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন ঋতাভরী। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে নবান্নে ডেকে পাঠান। ঋতাভরীর সঙ্গে বৈঠকের পর পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।